পুলিশকে একা না চলার গোপন নির্দেশনা ফাঁস, শনাক্তে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

খুলনায় পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ আলমের ওপর ছিনতাইকারীদের হামলার পর দেওয়া গোপন নির্দেশনাটি কেবলমাত্র খুলনা জেলার পুলিশ সদস্যদের জন্য। এ সংক্রান্ত চিঠিটি ফাঁস হওয়া ও প্রচারণার বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, গোপন সতর্কবার্তাটি অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য নয়। অপপ্রচার ছড়িয়ে জনগণের বিভ্রান্ত না করতে সকলকে অনুরোধ জানানো হলো। তদন্তে নির্দেশনাটি পুলিশের ভেতর থেকে ফাঁস ও প্রকাশের সঙ্গে দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

খুলনা জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “অফিস সিক্রেসী এক্ট অনুযায়ী গোপন এ নির্দেশনাটি বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ডিএসবির চিঠিপত্র খুবই গোপনীয়। এটা কি করে ফাঁস হলো তদন্তের মাধ্যমে আগে সেটা দেখা হবে। আর এ চিঠিটি প্রচারের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দেওয়ায় জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”

এতে আরও বলা হয়েছে, ওই পুলিশ পরিদর্শকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু তার দু'হাতের কয়েকটি আঙুল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঙ্গুলগুলো কর্মক্ষমতা স্থায়ীভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। 

 সম্প্রতি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. শাহ আলম দায়িত্ব পালন শেষে গভীর রাতে সাদা পোশাকে রূপসা ফেরিঘাট পার হয়ে রিকশা করে খুলনা মহানগরীর পুলিশ ক্লাবে যাচ্ছিলেন। পথে কলেজিয়েট স্কুলের নিকট তিনজন ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তার মানিব্যাগ ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে একজন ছিনতাইকারী চাপাতি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করতে চেষ্টা করেন। এ সময় তার উভয় হাত গুরুতরভাবে জখম হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। 

গত শুক্রবার সকালে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালন শেষে, বিশেষত গভীর রাতে সাদা পোশাকে চলাচলের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন করার লক্ষ্যে পুলিশ সুপার, খুলনার স্বাক্ষরে একটি আন্তবিভাগীয় নির্দেশনামূলক অফিস আদেশ জারি করা হয়। 

আদেশটি শুধুমাত্র খুলনা জেলা পুলিশের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল। এটি কোনোভাবেই খুলনা জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করা কিংবা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জারি করা হয়নি।