পাবনা ও কুষ্টিয়া সীমানায় পদ্মা নদীর চরের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চর এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) পাবনার লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মার ‘ডিগ্রির চর’ এবং পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনায় এ সংঘর্ষ চলে।’’
তবে এতে কেউ হতাহত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, ডিগ্রির চর বেশ কিছুদিন ধরে ‘কালু বাহিনী’র নিয়ন্ত্রণে ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে ‘কাকন বাহিনী’র সদস্যরা একটি ট্রলারে করে পদ্মা-গড়াই নদী মোহনায় এসে ডিগ্রির চরের দিকে লক্ষ্য করে হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।
এ সময় চরের কৃষি জমিতে অন্তত অর্ধশত কৃষক কাজ করছিলেন। গুলির শব্দে তারা আতঙ্কে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।
পরবর্তীতে চরে অবস্থানরত ‘কালু বাহিনী’র সশস্ত্র সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়লে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে শেষ বিকালের দিকে ‘কাকন বাহিনী’ আরও দুটি ট্রলারে অতিরিক্ত অস্ত্র ও সদস্য এনে শক্তি বৃদ্ধি করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে অন্তত কয়েকশ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “দুপুরের দিকে গোলাগুলির খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশের দল পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের একটি দলও তাদের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয়। সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন পর্যন্ত আর কোনো গুলির শব্দ পুলিশ বা কৃষকরা শুনতে পায়নি।’’
তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর আগে আমরা এসব বাহিনীকে ধরতে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করেছি। প্রয়োজনে আবারও অভিযান চালানো হবে, এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।”