রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। বিভাগের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের মধ্যে এবার ৩৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করেছে মাত্র ৯টি কলেজ। সব মিলিয়ে এ বছর বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা করোনা মহামারীর সময়ে ২০২০ সালের অটোপাসের পর সর্বনিম্ন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করেন।
বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। পাস করেছে ৬১ হাজার ৮৯৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৭৫ হাজার ৪৬২ জন শিক্ষার্থী। বিভাগের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০৮টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশ ভালো করেছে। ছেলেদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, আর মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ০৩ %। বোর্ডে এবার মোট ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৬৫ জন ছেলে এবং ২ হাজার ৫৫৫ জন মেয়ে। পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
বোর্ডের গত কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে শতভাগ পাসের পর ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে তা কমে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি বছরে তা আরও কমে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে এসে ঠেকলো।
ফলাহলের এই তীব্র পতন প্রসঙ্গে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, “শিক্ষার্থীরা খাতায় যেমন লিখেছে, সেভাবেই নম্বর দেওয়া হয়েছে। কাউকে কোনো বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। সে কারণেই সামগ্রিক ফলাফলে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।”