গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে উত্তেজনা, অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ( বর্তমানে গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসার অপসারণের দাবিতে দিনভর বিক্ষোভের পর গভীর রাতেও আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর রাতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিল হোসেন জানান, অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে সকাল থেকেই তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে অধ্যক্ষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানায়। পরে রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়।

ওসি বলেন, “কলেজের একটি অনুষ্ঠান গভীর রাত পর্যন্ত চলায় দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কলেজের ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পূজার আগে কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে না পারায় অধ্যক্ষ দুই ছাত্রীর আসন বাতিল করেন। পরে ক্ষমা চাইতে গেলে তাদের কাছে অডিটোরিয়াম ব্যবহারের বিল বাবদ সাড়ে ১২,০০০ টাকা দাবি করা হয়।

শিক্ষার্থী শম্পা আখতার জানান, এত টাকা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ঘটনার প্রতিবাদেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। রাতে অধ্যক্ষ পুলিশ ডেকে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা করিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসা। তিনি বলেন,শিক্ষার্থীরা রাত ১০টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠান ভোর ৫টায় শেষ করেছে। এ কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইলে তাদের প্রতি নমনীয় হন তিনি।

অধ্যক্ষ বলেন, “কলেজের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে তার কোনো অপরাধ নেই।”

পরে রাত ২টা ১০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন করে রাতের মতো কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে তামান্না ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আবারও আন্দোলন শুরু করবেন তারা। তবে শুক্রবারের নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। পরীক্ষা শেষে আবারও আন্দোলন শুরু হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, শুক্রবার ক্যাম্পাসে কোনো সরকারি পরীক্ষা না নেওয়া, শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শোকজ করা এবং অধ্যক্ষের পদত্যাগের লিখিত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা। এছাড়া হামলাকে বৈধতা দিয়েছেন - এমন শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবিও জানিয়েছেন তারা।