আবারও কালিতে ঢেকে দেওয়া হলো রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি

খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি আবারও কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিকৃতির পাশে দুটি প্রচারপত্র লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, “শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ খোঁজখবর শুরু করেছে। তবে সড়কের বিপরীত পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় কারা এবং কখন এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফর উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে নগরের রেলস্টেশন এলাকার দেয়ালে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে গ্রাফিতি আঁকা হয়। সেখানে জুলাই অভ্যুত্থান, সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাটশিল্পের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ খুলনা অঞ্চলের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা গুণীজনদের প্রতিকৃতি স্থান পায়।

পুরোনো যশোর রোডের পাশের ওই দেয়ালে ফকির লালন সাঁই, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছিল। তবে এসব প্রতিকৃতির মধ্যে শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়া হয়েছে। এর পাশেই লাগানো হয়েছে দুটি প্রচারপত্র।

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা” শিরোনামের ওই প্রচারপত্রে বিভিন্ন বক্তব্যের পাশাপাশি লেখা রয়েছে, “তিতুমীরের বাংলায়, মুসলিম ও পূর্ব বাংলা বিদ্বেষী রঠার ঠাঁই নাই/ভারত বন্দনার ঠাঁই নাই।”

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, “এসব প্রতিকৃতি শিশু-কিশোরদের মুক্তচিন্তার বিকাশে ভূমিকা রাখবে। কালি দিয়ে যারা প্রতিকৃতি ঢেকে দিয়েছে, তারা নিজেদের সংকীর্ণ মনন ও অসুস্থতার পরিচয় দিয়েছে।”

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১০ অক্টোবর ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গ্রাফিতির মুখমণ্ডলে কালি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াশসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।