Saturday, November 07, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আগামী রমজানে তারাবি পড়ানোর স্বপ্ন, তার আগেই নিভে গেল আয়মানের জীবন

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে লরির ধাক্কায় প্রাণ হারায় এই কিশোর

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ এএম

কোরআনের হাফেজ হয়েছিল ১৪ বছর বয়সী আরহাম হোসাইন আয়মান। হেফজ শেষ করে পবিত্র কোরআন শরিফের পুনরাবৃত্তি করছিল সে। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, আগামী রমজানে মসজিদে তারাবির নামাজে ইমামতি করবে আয়মান। সেই স্বপ্ন পূরণের প্রস্তুতির মধ্যেই শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে বাসা থেকে বাইসাইকেল নিয়ে বের হয় সে। কিন্তু আর ঘরে ফেরা হয়নি তার। চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে লরির ধাক্কায় প্রাণ হারায় এই কিশোর।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরের নয়াবাজার বিশ্বরোডের গ্রিন ভিউ আবাসিক এলাকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসরের নামাজের পর কাউকে কিছু না জানিয়ে সাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল আয়মান। নয়াবাজার বিশ্বরোডের মোড় থেকে গ্রিন ভিউ আবাসিক এলাকার দিকে যাওয়ার সময় সড়কের মাঝামাঝি একটি লরির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় সে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আয়মানের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বৃহত্তর মুছাপুর ইউনিয়নের আলী মিয়া বাজারের পূর্ব পাশে ভূঁইয়া হাজীর বাড়িতে। তার বাবা মুহাম্মদ আলমগীর কুয়েতপ্রবাসী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে আয়মান ছিল সবার ছোট। পরিবারের সঙ্গে নগরের হালিশহর এলাকার এ ব্লকের ৯ নম্বর লেনে বসবাস করত সে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করত আয়মান। কোরআন মুখস্থ শেষ করার পর তা আবার ঝালিয়ে নিচ্ছিল সে। আগামী রমজানে তারাবির নামাজে কোরআন তিলাওয়াত করার প্রস্তুতিও চলছিল। ছেলের কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত শোনার অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

আয়মানের মৃত্যুর খবর পেয়ে কুয়েত থেকে দেশে ফিরছেন তার বাবা মুহাম্মদ আলমগীর। এক মাস আগে ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। শনিবার দুপুরে বাবার উপস্থিতিতে আয়মানের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নিহত আয়মানের মামা মো. বেলাল উদ্দিন জানান, আসরের নামাজের পর সাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল আয়মান। বিশ্বরোড এলাকায় দুর্ঘটনার খবর প্রথমে মুঠোফোনে স্বজনেরা জানতে পারেন। তিনি নিজেও সন্ধ্যার দিকে খবরটি পান। পরে জানতে পারেন, আয়মান আর বেঁচে নেই।

তিনি আরও বলেন, “আয়মান কোরআনের হাফেজ ছিল। হেফজ শেষ করার পর আবার কোরআন শরিফের পুনরাবৃত্তি করছিল। আগামী রমজানে তারাবির নামাজে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। পরিবারের আশা ছিল, তার কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত শুনবেন। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না।”

পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন, “দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করার কথা জানানো হয়েছে। তবে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে দুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি শনাক্ত এবং চালককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করবে।”

   

About

Popular Links

x