রাজধানীতে এক রাতেই ৮ ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এক রাতেই অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আদাবর, শাহবাগ, খিলগাঁও, বিমানবন্দর ও মিরপুরের কালশী এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে।

এছাড়া প্রগতি সরণীর কোকাকোলা ক্রসিং এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে খিলগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের ভেতরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “আশপাশের কোনো বাসার ছাদ অথবা নিচের কোনো স্থান থেকে ককটেলটি নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে।”

রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে আদাবর থানার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা। বিস্ফোরণের পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সেকেন্ড ইন কমান্ড-টুআইসি) ফজলুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এরপর রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শাহবাগ থানাধীন আইবি গেটের সামনে পুলিশের ডিউটি গাড়ি লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা ককটেলটি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১২টা ১ মিনিটে শাহবাগের জুলাই চত্বরের পাশেও আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল খালেক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দরের গোলচত্বরে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, “উড়ালসড়ক থেকে কে বা কারা দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।”

এছাড়া রাতে মিরপুরের কালশী মোড়ে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে এসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার একটি ভিডিওতে মোটরসাইকেলে আসা ব্যক্তিদের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত চলে যেতে দেখা গেছে।

মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, কারা এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রগতি সরণীর কোকাকোলা ক্রসিং এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বাসটি সাভার-নতুন বাজার রুটে চলাচল করতো। নতুন বাজারে যাত্রী নামানোর কিছু সময় পর দুর্বৃত্তরা বাসটিতে আগুন দেয়। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানাতে পারেননি পরিবহন কোম্পানির কর্মকর্তারা।  

পাঁচটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। ধারাবাহিক এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করেছে।