করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ১৩ জানুয়ারি থেকে দেশের সব বিমানবন্দরে র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা করেছিল সরকার। তবে এখন পর্যন্ত দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনাভাইরাসের র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হয়নি।
প্রধান বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে বর্তমানে শুধু সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, অপর্যাপ্ত জনবল ও জায়গার অভাবই এখন পর্যন্ত র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু না হওয়ার মূল কারণ।
আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় ৮ ঘণ্টা সময় লাগলেও র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে এক ঘণ্টারও কম সময়ে ফলাফল পাওয়া সম্ভব। এ কারণে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই আরটি-পিসিআর পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে বিমানবন্দরগুলোতে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু করেছে।
জায়গা ও জনবলের অভাব
সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জনম জয় দত্ত ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, গত ৩ জানুয়ারি থেকে কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে সীমিত আকারে র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু করেছে। প্রতিদিন গড়ে ২৫ জনের অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হয়।
তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে বিমানবন্দরে সম্পূর্ণভাবে র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া, আমাদের কাছে ফলাফলের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা বা জনবলও নেই।”
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন।
বিমানবন্দর স্বাস্থ্য অফিসের সহকারী পরিচালক ড. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, “যেখানে বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত জায়গা নেই সেখানে এত বিপুলসংখ্যক যাত্রীদের পরীক্ষা করা কীভাবে সম্ভব?”
তিনি আরও বলেন, “যদি বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকত, তবুও ১০০ জনেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মীকে নিয়োগ করতে হবে এ কাজে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে।”
বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠকের সময় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নমুনা পরীক্ষার জন্য অপর্যাপ্ত জনবলের বিষয়টি উত্থাপন করেছিল। বৈঠকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিমানবন্দরে দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার এবং পর্যাপ্ত কর্মীসহ ডেস্কের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে শিগগিরই অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালুর সম্ভাবনা নেই
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. আহমেদুল কবির জানান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে শিগগিরই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, “আমরা সব যাত্রীদের নমুনা পরীক্ষা করতে চাইলেও তবে সব বিমানবন্দরে র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই।”
ঢাকা বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান জানান, নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালটি কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে জায়গার অভাব থেকেই যাবে।
তিনি আরও জানান, সংস্কারকাজের জন্য জুন পর্যন্ত প্রতি রাতে ৮ ঘণ্টা ঢাকা বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ থাকবে। ফলে ইতোমধ্যেই ফ্লাইটের পরিবর্তিত সময়সূচির কারণে বিমানবন্দরের কর্মীরা ব্যতিব্যস্ত রয়েছেন।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী জানান, বন্দর নগরীর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুধু আগত যাত্রীদের টিকা নেওয়ার সনদপত্র যাচাই করা হয়।
র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এম এইচ চৌধুরী (লেনিন) বলেছিলেন, “কর্তৃপক্ষ যদি কঠোর স্বাস্থ্য নির্দেশিকা প্রয়োগ করতে এবং আগত যাত্রীদের উপর র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিমানবন্দরগুলো সুরক্ষার প্রথম বলয় হওয়ার বদলে সংক্রমণের প্রধান কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠবে।”