মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান হত্যার মূল আততায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
রবিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানায় ডিবি।
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জাহিদুলকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে এই হত্যাকাণ্ডে মাসুমের অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আরও পড়ুন- ‘এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যেই জাহিদুলকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা’
ডিবির জানায়, রবিবার সকালে বগুড়া থেকে মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় জাহিদুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে রিকশায় থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া নিহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য পাঁচ দিন আগে মাসুমকে ভাড়া করা হয়। ঘটনার তিন দিন আগে অপরিচিত এক ব্যক্তি কমলাপুরের ইনল্যান্ড ডিপো এলাকায় এসে মাসুম এবং তার সহযোগীকে একটি মোটরসাইকেল ও অস্ত্র দিয়ে যান।
আরও পড়ুন- কার শাস্তি চাইব, কার কাছে চাইব বিচার?
ডিবির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার আগের দিনও জাহিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে এজিবি কলোনিতে গিয়েছিল মাসুম ও তার সহযোগী। তবে সেদিন তাকে সুবিধামতো না পেয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের।
হাফিজ আক্তার বলেন, পরদিন (২৪ মার্চ) রাতে শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় জাহিদুলকে লক্ষ্য করে অনেকগুলো গুলি করা হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় জাহিদুল ও কলেজছাত্রী সামিয়ার। আহত হন জাহিদুলের গাড়িচালক মনির হোসেন।
শুধু আর্থিক সুবিধার জন্য মাসুম এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি বলে দাবি হাফিজ আক্তারের।
তিনি বলেন, মাসুম একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাফিকস ডিজাইনের ওপর পড়াশোনা করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। বাবা একজন স্কুলশিক্ষক। তার স্ত্রী-সন্তান আছে। মাসুম অপরাধজগতে জড়িয়ে একটি হত্যা মামলাসহ চার-পাঁচটি মামলার ফেরারি আসামি। এসব মামলা থেকে বাঁচানো এবং নানা সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা তাকে বলে এই হত্যাকাণ্ডে রাজি করা হয়। তবে কারা তাকে ভাড়া করেছিলেন, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
আরও পড়ুন- রক্ত দেখে লোকজন বলে, ‘গুলি লাগছে’
ডিবি জানায়, জাহিদুল মতিঝিল এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অনেকগুলো বিষয় কাজ করেছে। তবে পূর্বপরিকল্পিত এই ঘটনার ‘‘মোটিভ’’ এখনও অজানা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হত্যার পরদিন রাতে ঢাকা থেকে একটি গাড়িতে জয়পুরহাটে যান মাসুম। সেখান থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তিনি ভারতে যেতে চেয়েছিলেন। সেদিন যেতে না পেরে তিনি বগুড়ায় চলে যান। যে গাড়িতে তিনি জয়পুরহাটে গিয়েছিলেন, সেই গাড়ির লোকজন ঢাকায় ফিরলে তাদের নিয়ে বগুড়ায় যায় পুলিশ। পরে বগুড়া জেলা পুলিশের সহায়তায় মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাসুমের সহযোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে ডিবি বলেছে, তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ডিবি আরও জানায়, সামিয়াকে গুলি করা প্রসঙ্গে মাসুমের ভাষ্য, অস্ত্রটি গুলিভর্তি ছিলে। তিনি জাহিদুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালালেও পরে শোনেন, তার গুলিতে একটি মেয়েরও মৃত্যু হয়েছে।