মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল। ২২ বছর ধরে ওই স্কুলে বিজ্ঞান ও গণিত পড়িয়ে আসছেন। গত ২০ মার্চ দশম শ্রেণির এক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার সময় শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ধর্ম ও বিজ্ঞানের পার্থক্য বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি। কয়েক শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য রেকর্ড করে। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হলে শুরু হয় আলোচনা।
পরে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করে কয়েকজন শিক্ষার্থী। ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী ও স্থানীয় একদল লোক বিক্ষোভও করে এলাকায়। তখন পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হৃদয় মণ্ডলকে তার বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারের ১৯ দিনের মাথায় ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টা ৫০মিনিটে জামিনে মুক্তি পেয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন হৃদয় মণ্ডল।
সোমবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আজকেই প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি দ্রুত স্কুলে যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু মুন্সিগঞ্জ পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি সমর কুমার ঘোষ আমাকে জানিয়েছেন, পুলিশ সুপার দুই-একদিনের মধ্যে সবাইকে নিয়ে বসবেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে আমাকে সেখানে যেতে বলেছেন। সে কারণে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। দ্রুতই স্কুলে যোগ দিতে চাই, শিক্ষার্থীদের পড়াতে চাই।”
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমর কুমার বলেন, “স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এখন দেশের বাইরে আছেন। দু-এক দিনের মধ্যে তিনি চলে আসবেন। এসপি সাহেব বলেছেন, সবাই মিলে একটা বৈঠকের পর তিনি (হৃদয় মণ্ডল) এলেই ভালো।”
তিনি আরও বলেন, “আমরাও চাইছি যেন উনি ফেরার পর নতুন করে কোনো ধরনের সংকট তৈরি না হয়।” একই কথা বলেছেন মুন্সিগঞ্জ জেলা বারের সভাপতি ও হৃদয় মণ্ডলের আইনজীবী অজয় কুমার চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, “আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। আশা করি, নতুন করে আর কোনো সংকট হবে না। স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইলে তিনি যে কোনো দিন স্কুলে যোগ দিতে পারেন। সেই আলোচনা চলছে।”
এর আগে, রবিবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে মুন্সিগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোতাহারাত আক্তার ভূঁইয়ার আদালত হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে ৫ হাজার টাকা বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলায় অভিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহিন মোহাম্মদ আমানু্ল্লাহ জামিন আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথোপকথনে ধর্মীয় অবমাননাকর কোনো বিষয় ছিল না। বাদী মামলায় যে অভিযোগ করেছেন তা প্রমাণিত হয়নি। সকল নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিজ্ঞ আদালত তা আমলে নিয়ে ৫ হাজার টাকা বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন।”
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পল্টু ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে অখুশি হলেও যেহেতু বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সেক্ষেত্রে যে কেউ ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা করতে পারেন।