প্রায় ৪ বছর পর বাংলাদেশিদের নতুন ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাহরাইন সরকার। আপাতত প্রথম দফায় ১৬১ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালে দেশে এসে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের পুনরায় বাহরাইনে ফিরে যাওয়ার পথ খুলল।
বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ফেসবুক লাইভে নির্বাচিত প্রবাসি বাংলাদেশিদের জন্য বাহরাইনের ভিসা আবারও উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার।
ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে দেশে এসে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে ১৬১ জন প্রথম দফায় ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এর আগে, মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাহরাইন সরকারের ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ার পর ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসী কর্মীদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়। তখন কমপক্ষে ৯৬৭ জন প্রবাসী কর্মী বাহরাইনে ফেরার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করেন।
তিনি বলেন, “আমরা ৯৬৭ কর্মীর নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। মাত্র ১৬১ জনের নিয়োগকর্তা তাদেরকে আবারও নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।”
নির্বাচিত ১৬১ জনকে শুরুতে ভিজিট ভিসা দেওয়া হবে। তারা সরাসরি তাদের মালিকপক্ষ বা স্পন্সর আর দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করতে পারবেন। বাহরাইনে যাওয়ার পর নিয়োগকর্তার মাধ্যমে সেটাকে ওয়ার্ক ভিসায় রূপান্তর করে সেন্ট্রাল পপুলেশন রেজিস্ট্রেশন (সিপিআর) করা যাবে।
তবে যারা প্রথম দফায় নির্বাচিত হননি তাদের আশা শেষ হয়ে যায়নি জানিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, “মালিকের সম্মতি আদায় করতে পারলে বা পেলে আমরা তাদেরকে ফেরানোর বিষয়েও বাহরাইন সরকারকে অনুরোধ করব।”
এছাড়া, যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের সদস্যদের বাহরাইনে নিতে আগ্রহী, তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম, পরিচয় ও পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করে দূতাবাসের ইমেইলে আবেদন করে রাখার পরামর্শ দেন ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্বারা সংগঠিত কয়েকটি মারাত্মক অপরাধজনিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখে বাহরাইন সরকার। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বাহরাইনের নিয়মিত ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে নানা প্রচেষ্টার পরও গত ৪ বছর ধরে শ্রমবাজার খোলা যায়নি।