আগামী ১৫ জুন টাঙ্গাইলের মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। কিছুদিন আগে এক নির্বাচনী সভায় আওয়ামী লীগ নেতা সাদিকুল ইসলাম সাদিকের মন্তব্যের জেরে এ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার (১২ জুন) এ নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তবে পরবর্তীতে কবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা জানানো হয়নি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খন্দকার মোহাম্মদ আলী বলেন, “উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও মির্জাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদিকুল ইসলাম সাদিকের বক্তব্যের জেরে অরণখোলা ইউপির নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশনা এসেছে। সোমবার তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হবে।”
নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিসার এ এইচ এম কামরুল হাসান বলেন, “অনিবার্য কারণে নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচন স্থগিত করেছেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ নির্বাচন স্থগিত থাকবে।”
আরও পড়ুন- ‘যারা নৌকায় ভোট দিবেন না, তারা ভোটকেন্দ্রে আসবেন না’
অরণখোলা ইউপি নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আগামী ১৫ জুন ২১টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২০টিতে ইভিএম এবং ১টিতে উপনির্বাচন থাকায় ব্যালটে নির্বাচন হবে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিকেলে অরণখোলা ইউনিয়নের আমলীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুর রহিমের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মির্জাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুল ইসলাম সাদিক।
সেখানে তিনি বলেন, “আমি আজকেও বলে দিতে চাই, ১৫ তারিখ ভোট হবে সারাদিন এবং নৌকা মার্কায় ভোট হবে। আপনারা ভোট দেবেন। যারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন, তারাই কেন্দ্রে আসবেন। আর যারা নৌকায় ভোট দিতে নারাজ, দয়া করে কেন্দ্রে আসবেন না। আমরা কিন্তু আশপাশেই অবস্থান করব। এখানে ২৪০০ ভোট রয়েছেন, যদি দুই হাজার ভোট কাস্ট হয়, আমরা দুই হাজার ভোটই পেতে চাই।”
তিনি আরও বলেছিলেন, “যেকোনো মূল্যে নৌকাকে আমাদের বিজয়ী করতেই হবে। এ জন্য আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ আমরা প্রতিটি কেন্দ্রে দুর্গ গড়ে তুলব। যেখানে যা প্রয়োজন আমরা সেটাই ব্যবহার করব।”
নির্বাচনী সভায় সাদিকুল ইসলাম সাদিকের দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও পরদিন বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি অনেক ভোটারের মাঝে অসন্তোষ এবং ভয়েরও জন্ম নিয়েছে। যদিও সাদিকুল সাদিকের দাবি ছিল, তার বক্তব্যটি বিরোধী পক্ষ এডিটিং করে কুৎসা রটিয়েছে।