শৈশব থেকেই সাঁতার কেটে কেটে এক সময়ে দক্ষ সাঁতারু হয়ে ওঠেন বকুল সিদ্দিকী (৪৫)। চোখে স্বপ্ন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর। সেই লক্ষ্যে ঘোষণা দিয়ে নদীপথে সাঁতার কেটে থাকেন। বিভিন্ন সময় জেলা ও জেলার বাইরে একাধিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। সঙ্গে পেয়েছেন বিভিন্ন সম্মাননাও।
সেই ধারবাহিকতায় এবার টানা ১৩ ঘণ্টায় সাঁতার কেটেছেন বকুল সিদ্দিকী। উল্লিখিত সময়ে তিনি সাঁতরে কুমিল্লার হোমনার কোনাবাড়ি ঘাট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর হয়ে নরসিংদী শহরের নাগরিয়াকান্দী এলাকার শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দেন। এরপর তাকে ফুল, ক্রেস্ট ও টাকার মালা দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সাঁতারু বকুল সিদ্দিকী পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তার বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের খোদাদিল্লা গ্রামে।
দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার (১৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টায় মেঘনা নদীর কুমিল্লার হোমনার কোনাবাড়ি ঘাট থেকে সাঁতার শুরু করেন বকুল সিদ্দিকী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নরসিংদীর নাগরিয়াকান্দী এলাকার শেখ হাসিনা সেতুতে এসে পৌঁছান তিনি।
দীর্ঘ এ সাঁতারে হোমনা থেকেই অনেক মানুষ ট্রলার ও স্পিডবোটে করে বকুল সিদ্দিকীর পিছু পিছু আসেন। ১০ জন স্বেচ্ছাসেবক তার পিছু পিছু স্পিডবোটে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। আগে থেকেই শত শত মানুষ নরসিংদী শহরের শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় বকুল সিদ্দিকীকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় ছিলেন। গন্তব্যে পৌঁছার পর করতালি দিয়ে অপেক্ষমাণ জনতা এ সাঁতারুকে বরণ করে নেন।
সাঁতার কেটে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছতে পারলে নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বকুল সিদ্দিকীকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর পর নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া আগামী সপ্তাহে আয়োজন করে তার হাতে পুরস্কারের এক লাখ টাকা তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
হোমনার কোনাবাড়ি ঘাট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর হয়ে নরসিংদী শহরের নাগরিয়াকান্দী এলাকার শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। তবে বিআইডব্লিউটিএ সূত্র বলছে, কোনাবাড়ি ঘাট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর হয়ে নাগরিয়াকান্দী এলাকায় শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার।
বকুলের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৫ সালে সাঁতারু হওয়ার নেশা জেঁকে বসে বকুল সিদ্দিকীর। তখন তিনি থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত সমুদ্রপথে প্রায় ১৮ কিলোমিটার সাঁতার কাটেন। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত সাঁতারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি তাকে।
এর আগেও এক সাঁতার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হিসেবে এক লাখ টাকা পুরস্কার পাওয়া বকুল সিদ্দিকী বলেন, “এ পর্যন্ত নদীপথে টানা ৪৮ ঘণ্টা সাঁতার কাটার রেকর্ড আছে। আমার স্বপ্ন ওই রেকর্ড ভেঙে গিনেস বুকে নাম লেখানো। এ কারণে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমি ঘোষণা দিয়ে নদীপথে সাঁতার কাটি। ভবিষ্যতে নরসিংদী থেকে নদীপথে সাঁতার কেটে রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।”
নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “বকুল সিদ্দিকীকে নিয়ে আমরা নরসিংদী মানুষ গর্ব করি। তার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠানোর স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে, এটা আমরা বিশ্বাস করি। তিনি তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলছেন।”