Saturday, July 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

এছাড়াও মামলার অভিযুক্ত সব আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২ এএম

নরসিংদীর মাধবদীতে দুই মাস বয়সী শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার আলোচিত ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার লতা (৩২) কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১১। এর মধ্য দিয়ে মামলায় অভিযুক্ত সব আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে নরসিংদীর আলীজন জুট মিলস এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নরসিংদীর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফারজানা আক্তার লতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঘুমিয়ে থাকা দুই মাস বয়সী শিশুর কাছে গিয়ে তার চাচি রত্না বেগম জোরে একটি পা মুচড়ে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে তার মা ছুটে এসে অস্বাভাবিক অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান। ভিডিওটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

র‍্যাব জানায়, মামলার পর থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান চালানো হচ্ছিল। তদন্তের একপর্যায়ে প্রধান আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে, ঘটনার দুই দিন পর অর্থাৎ ১৩ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয় শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে শিশুটির পরিবারের দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও শিশুর পা ভেঙে যায়নি।

ঘটনাটি নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদি গ্রামে ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি সায়েবা বেগম ও জহিরুল হকের সন্তান। মামলার এজাহার অনুযায়ী অভিযুক্তরা হলেন শিশুর চাচি লতা বেগম (৩২), তার স্বামী কাউসার আহমেদ (৩৩) এবং কাউসারের শ্বশুর আলমাছ মিয়া (৬০)।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, জন্মের পর থেকেই অসুস্থ থাকায় শিশুটি বিভিন্ন সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল এবং প্রায়ই কান্না করত। এ নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় শিশুর মা গোপনে একটি ভিডিও ধারণের ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

   

About

Popular Links

x