Saturday, July 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কাশিমপুর কারাগার থেকে পালালেন নারী বন্দি, তদন্ত কমিটি গঠন

পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে নারী বন্দি রিম্পা (২১) পালানোর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সহকারী কারা মহা-পরিদর্শক (এআইজি) জান্নাতুল ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার (১৭ জুলাই) নারী বন্দি পলায়ন ঘটনার তদন্তে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় ভিত্তিতে ওই সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।

কারাগার সূত্রে জানা যায়,  গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এক পর্যায়ে রিম্পা (২১) কারাগারের অফিস ভবনের পাশের দেওয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পলাতক রিম্পা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের হাসানের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তিনি কারওয়ান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। গত ৯ জুলাই আদালত থেকে এ কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পলায়ন ঘটনার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষ পুরো কারাগারে তল্লাশি চালালেও রিম্পার কোনো সন্ধান পায়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন।

এআইজি জান্নাতুল ফরহাদ জানান, ঘটনার পর কোনাবাড়ি থানায় মামলা হয়েছে। পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এতো নিরাপত্তার মধ্যেও একজন বন্দি কারাগার থেকে কিভাবে পালালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এআইজি প্রিজন্স জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, “এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে বন্দি রিম্পাকে আর কারাগারে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমাদের টিম কাজ করছে। তারা একটি ‘ক্লু’ পেয়েছে। কোনাবাড়ি এলাকার এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন থেকে ওই নারী তার বাড়িতে কথা বলেছেন। এর সূত্র ধরে অভিযান চলছে। নিয়ম অনুযায়ী বিকাল ৫টার মধ্যে বন্দিদের লকআপ করতে হয়। ওই সময়ের মধ্যে বন্দিদের লকআপ না করায় এক বন্দি কৌশলে কারাগার থেকে পালিয়ে যায়।”

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার (১৭ জুলাই) কারাগারের জেলার শিরীন আক্তার বাদী হয়ে কারাগার থেকে এক বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পালিয়ে যাওয়া বন্দিকে গ্রেপ্তারে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

   

About

Popular Links

x