আজ ১৫ জুন “বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস”। এই দিবস পালনের লক্ষ্য হলো, বয়স্কদের ওপর নির্যাতন এবং তাদের যন্ত্রণা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।
২০০২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রথম প্রবীণ নির্যাতন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে এটিকে বৈশ্বিক সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
২০০৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর প্রিভেনশন অব এল্ডার অ্যাবিউজ (আইএনপিইএ) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৫ জুনকে বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস হিসেবে পালনের জন্য জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ জানায়। এরপর ২০১১ সালে জাতিসংঘ দিবসটি পালনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
সেই থেকে জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
উন্নয়নশীল এবং উন্নত সব দেশেই প্রবীণদের ওপর নির্যাতন হয়ে থাকে। যদিও প্রবীণ নির্যাতনের বিষয়গুলো খুব কমই সামনে আসে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি ছয়জন বয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে একজন প্রবীণ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সেই অনুযায়ী, প্রায় ১৪ কোটি প্রবীণ সারা বিশ্বে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা যে এর চেয়েও অনেক বেশি।
এদিকে, দিবসটিকে সব দেশ এখনো সমান গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশও এই শ্রেণিভুক্ত। সরকারিভাবে দিবসটির কোনো স্বীকৃতি নেই, পালনও করা হয় না। ফলে অধিকাংশ নাগরিকের কাছে প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবসের তাৎপর্য অনেকটাই অজানা।
দেশে প্রবীণ নির্যাতন বিষয়ে অল্প কিছু গবেষণা হয়েছে। গবেষণাগুলো থেকে যা জানা গেছে, দেশের অধিকাংশ প্রবীণই পারিবারিকভাবে কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, আবেগজনিত, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবহেলা, বঞ্চনা, অসম্মান, দুর্ব্যবহার, রূঢ় আচরণ ইত্যাদি রয়েছে।
এছাড়াও তারা অবজ্ঞা, অবহেলা, অসম্মান ও দুর্ব্যবহারের স্বীকার হচ্ছেন।
প্রবীণদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে নির্যাতন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগ থাকবেন প্রবীণ। তাই সব বয়সী মানুষদের সচেতন করা না গেলে প্রবীণ নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়।