২৬ বছরে ৭,৮৪১ কোটি টাকা টোল পেয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু

১৯৯৮ সালের ২৩ জুন যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে শুরু হয় যান চলাচল। খুলে যায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দ্বার।

২৬ বছরে (২০২৩ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত) সেতুটি দিয়ে ৯ কোটি ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৬ বার যানবাহন পার হয়েছে। আর এতে টোল আদায় হয়েছে ৭,৮৪১ কোটি ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫৪ টাকা। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণে সরকারের ব্যয় হয় ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সরকার জানায়, এ সেতুটি নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগীদের থেকে নেওয়া টোল শোধ হবে ২০৩৪ সালে।

তবে, গত ২৭ জুন যান চলাচল ও টোল আদায়ে রেকর্ড গড়ে বঙ্গবন্ধু সেতু, এদিন ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৫৫,৪৮৮ বার গাড়ি পারাপার হয়। টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ২০০ টাকা। আর ২৫-৩০ জুন পর্যন্ত সেতুটি দিয়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯১৫ বার যান পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয় ১৪ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল ঢাকা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

১৯৯৪ সালে সেতুটির কাজ শুরু হয়। সেতুটির পূর্ব প্রান্তে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর এবং পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ। ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এটি পরবর্তীতে এই সেতুর নামকরণ করা হয় বঙ্গবন্ধু সেতু।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৯৮ সালের জুন মাসে ৯৮ লাখ টাকা টোল আদায় হয়। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ৬১ কোটি ২৭ লাখ, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৯৪ লাখ, ২০০০-০১ অর্থবছরে ৮২ কোটি ৮৪ লাখ, ২০০১-০২ অর্থবছরে ৯৩ কোটি ৫৮ লাখ, ২০০২-০৩ অর্থবছরে ১০৮ কোটি ৭২ লাখ, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ১৩১ কোটি ৮ লাখ, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১৫২ কোটি, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১৯৭ কোটি ৯৭ লাখ, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১৭৩ কোটি ৭৬ লাখ, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২০১ কোটি ৯৬ লাখ, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ২১৪ কোটি ৪২ লাখ, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৪২ কোটি ৯৯ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৬৭ কোটি ১০ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩২৭ কোটি ৯৮ লাখ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩২৫ কোটি ৩৮ লাখ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৫১ কোটি ১৪ লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪০৪ কোটি ৮৮ লাখ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৮৬ কোটি ৫২ লাখ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৪৩ কোটি ৮০ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৭৫ কোটি ৩৪ লাখ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৬০ কোটি ২৮ লাখ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬৫৪ কোটি ৮২ লাখ, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭০৪ কোটি ৫৫ লাখ এবং ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৬৮০ কোটি ৭৫ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক ঢাকার সঙ্গে সড়কপথে উত্তরবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগের পথ। এ সড়ক ব্যবহার করে অন্তত ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করে।

সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, “বঙ্গবন্ধু সেতুর দুই প্রান্তে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে বর্তমানে যানবাহন চলাচল করছে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে ঈদযাত্রায় কয়েকগুণ যানবাহন পার হয় সেতু দিয়ে। ফলে চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।”

বর্তমানে সেতুটির টোল আদায় করছে কমিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক (সিএনএস)।