দেশের প্রথম পাতালরেল নির্মাণের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পাতাল মেট্রোরেলের ডিপো ও লাইন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে দিকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় এই কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এটি মূলত দ্বিতীয় মেট্রোরেল ও প্রথম পাতালরেল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হলো। নতুন যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ। কিছুক্ষণ আগে আমরা পাতালরেলের কাজের উদ্বোধন করলাম। এর আগে উড়াল মেট্রোরেল উপহার দিয়েছি৷ সেটা ওপর দিয়ে যাচ্ছে, এবার মাটির নিচ দিয়ে পাতালরেল যাবে।”

সরকারপ্রধান বলেন, “মেট্রোরেল নির্মাণের সবচেয়ে বড় দিক হলো এটায় পরিবেশ দূষিত হবে না। বিদ্যুতে চলবে। এটা পরিবেশবান্ধব। শব্দ দূষণ থাকবে না।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, পাতালরেলের কাজ করার সময় মাটির নিচ থেকে বোরিং মেশিন দিয়ে গর্ত করে টানেল করা হবে। এখানে জনগণের চলাচলের কোনও সমস্যা হবে না। ভূপৃষ্ঠের ১০ মিটার নিচে কাজ হবে, ফলে ওপর থেকে বোঝা যাবে না যে মাটির নিচে কাজ চলছে। এই পাতাররেলের পূর্বাচল অংশ হবে উড়ালপথ। এছাড়া বিমানবন্দর রুটে ১২টি পাতাল রেল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। খননকাজের সময় মানুষের যাতে কোনো সমস্যা না হয় তার দিকে খেয়াল রাখা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কাজ হবে।

দেশের প্রথম মেট্রোরেলের উড়ালপথের অংশ রাজধানীর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চালু হয়েছে। এবার দ্বিতীয় মেট্রোরেল হচ্ছে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত, যা মূলত পাতালরেল। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অধীনে বাস্তবায়ন হতে চলা প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ মাটির নিচে নির্মিত হবে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, দ্বিতীয় মেট্রোরেলের (উড়াল ও পাতাল) দুটি রুটের মোট দৈর্ঘ্য ৩১.২৪ কিলোমিটার। এটি এমআরটি লাইন-১ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ১৯.৮৭ কিলোমিটার পাতালরেল। এই রুটে ১২টি স্টেশন হবে। এগুলো হলো- বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩, খিলক্ষেত, যমুনা ফিউচার পার্ক, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ ও কমলাপুর।

এছাড়া পূর্বাচল রুটে নতুন বাজার স্টেশনটি পাতালে নির্মাণ করা হবে। নতুন বাজার থেকে পূর্বাচলের নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জ পর্যন্ত যাবে এই রুট; যার দৈর্ঘ্য ১১.৩৬ কিলোমিটার। উড়ালপথের এই রুটে স্টেশন হবে ৯টি। এগুলো হলো- নতুন বাজার, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা, পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি, মাস্তুল, পূর্বাচল পশ্চিম, পূর্বাচল সেন্টার, পূর্বাচল পূর্ব, পূর্বাচল টার্মিনাল ও পিতলগঞ্জ ডিপো। 

এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা জাপানি ঋণ আর বাকি অর্থ ব্যয় করবে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৈনিক ৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। 

প্রকল্প সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পটি চালু হলে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পৌঁছাতে ১২টি স্টেশনে থেমে ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময় লাগবে। নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত ৯টি স্টেশনে থেমে ২০ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড এবং কমলাপুর থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশনে থেমে ৪০ মিনিট লাগবে।

নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জে মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ডিএমটিসিএল। 

এ বিষয়ে কোম্পানিটির এমডি এমএএন সিদ্দিক জানান, রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ মৌজায় ৮৮.৭১ একর ভূমিতে মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর মধ্য দিয়ে পাতালরেলের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। মূলত এমআরটি-১ প্রকল্পের একটি অংশ পাতাল এবং অপরটি উড়াল হবে। বিমানবন্দর রুট ও পূর্বাচল রুটে চলাচলকারী সব মেট্রোরেল ডিপোটির সুবিধা পাবে।