চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ৯টি সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাকিব হাসান ঢাকা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে ৯টি সুপারিশ করা হয়েছে।”
তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “তদন্তে অনেক বিষয় উঠে এসেছে। এ দুর্ঘটনার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের অনেক গাফিলতি বা ত্রুটি ছিল। যার কারণে এ বিস্ফোরণ ঘটছে। কী কী গাফিলতি ছিল তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এ কারখানায় শিল্প-কারখানার জন্য অক্সিজেন বোতলজাত করা হয়। অক্সিজেন বোতলজাত করার সময় অতিরিক্ত চাপের কারণেই এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে এ জন্য ৯টি সুপারিশ করা হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা হবে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায়। এরপর প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হবে। তাদের অনুমতি পেলে প্রতিবেদনের বিস্তারিত সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা হবে।”
গত ৪ মার্চ সীতাকুণ্ডের সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন আরও ২৫ জন। বিস্ফোরণে ৫০০ গজ দূরে উড়ে যাওয়া লোহার পাতের আঘাতেও একজনের মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়, যার নেতৃত্ব দেওয়া হয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাকিব হাসানকে। ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক পরিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, শিল্প ও জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন ওই তদন্ত কমিটিতে।
বিস্ফোরণের পর থেকে সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে মালিকপক্ষ। এছাড়া বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে যে দুজন পা ও চোখ হারিয়েছেন, তাদের ৫ লাখ টাকা করে দেবে প্রতিষ্ঠানটি। আহত অন্যরা চিকিৎসার জন্য দুই লাখ টাকা করে পাবেন। আহতরা কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত সবরকম বেতন-ভাতা পাবেন।