ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জাতিসংঘ ও এর অংশীদাররা ৪ কোটি ২১ লাখ মার্কিন ডলার জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।
ঝড়ে বাংলাদেশে ৩৩টি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ও আশপাশের গ্রামগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
মঙ্গলবার (২৩ মে) জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয় কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ৩ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার এবং টেকনাফের বাসিন্দাদের জন্য ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার চেয়েছে জাতিসংঘ এবং এর অংশীদার সংস্থাগুলো। জরুরি চাহিদা পূরণ, বর্ষার আগে প্রস্তুতি, জীবন বাঁচানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়ন ও সেবাকেন্দ্রগুলোর জন্য বৈরী আবহাওয়া ও আগুন প্রতিরোধক উপকরণ ব্যবহারে এসব অর্থ খরচ করা হবে।
গত ১৪ মে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় “মোখা”। ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে নির্মিত রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকে বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য স্যানিটেশন সুবিধা হারিয়েছেন। এছাড়াও শিক্ষা, পুষ্টি, সুরক্ষা এবং অন্যান্য সুবিধাকেন্দ্রগুলোও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস বলেছেন, “ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশি ও শরণার্থী জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। আমাদের যা করতে হবে, তা হলো—স্থাপনাগুলো বৈরী আবহাওয়া এবং অগ্নি-প্রতিরোধক উপকরণ দিয়ে আরও ভালোভাবে তৈরি করা। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মার্চ মাসে অনেক শরণার্থী তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন এবং পুনরায় সবকিছু নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। ঘূর্ণিঝড়ের পর তারা আবার তাদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ করছেন এবং আসন্ন বর্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”
এ বছর রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশেষ ঝুঁকিতে আছেন। কারণ, ২০২৩ সালে ৮৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র ১৭ শতাংশ অর্থায়নের অঙ্গীকার পাওয়া গিয়েছে। তহবিল ঘাটতির কারণে বছরের মার্চ এবং জুন মাস থেকে দ্বিতীয়বারের মতো রেশন কমানোর ফলে খাদ্য সহায়তা ৩৩.৩ শতাঙশ হ্রাস পাবে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
লুইস বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাজ করার সুযোগ নেই এবং তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। শরণার্থীদের সম্পূর্ণ খাদ্য রেশন নিশ্চিত করতে ৫ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এখন ঘূর্ণিঝড়ের পরে ক্যাম্পগুলোর পুনর্গঠন এবং বর্ষার প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সহায়তাও প্রয়োজন।”
ঘূর্ণিঝড়ের সময় মানুষের জীবন রক্ষায় দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং সাড়াদানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন লুইস।
মিয়ানমারের মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোও ঘূর্ণিঝড় মোখায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ লাখ মানুষের সহায়তায় আজ ৩৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার জন্য আবেদন করেছে।