রামপুরায় সিলিং ফ্যানের হুকে ঝুলছিল স্বামী–স্ত্রীর মরদেহ

রাজধানীর পূর্ব রামপুরার তিতাস রোডের একটি বাসার সিলিং ফ্যানের হুকে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন জুয়েল মিয়া (২৮) ও তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার (২২)। পরিবারের দাবি, অভাব অনটনের কারণে হতাশা থেকে তারা আত্মহত্যা করেছে।

রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চম্পক চক্রবর্তী লাশ উদ্ধারের বিষয়টি ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, “আমরা রাত ২টার দিকে সংবাদ পেয়ে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ” 

মৃত নাসরিনের ভাই টিটু খন্দকার জানান, চার বছর আগে নাসরিন ও জুয়েলের বিয়ে হয়। তারা গাজীপুরে থাকতেন। তাদের একটি সন্তান ছিল, সন্তানটি সাত মাস বয়সে মারা যায়। নাসরিন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন, তার স্বামী জুয়েল লেগুনা চালাতেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারণে সম্প্রতি জুয়েলের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে তাদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছিল।

টিটু বলেন, “এই অবস্থা দেখে তাদের আট মাস আগে তাদের আমার কাছে রামপুরায় নিয়ে আসি। এখানে আমার পাশে একটি রুমে থাকতে দিই। নাসরিন বাসাবাড়িতে কাজ করতো। কয়েকদিন দিন যাবত সে জ্বরে ভুগছিল। ডাক্তার দেখিয়েছি। চিকিৎসকরা বলেছেন এটা ভাইরাস জ্বর। কিছুদিন সময় লাগবে। তাদের খাওয়া দাওয়া আমার বাসা থেকেই দিতাম।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল রাত আনুমানিক ১২টার পর বাসায় এসে তাদের রুমের সামনে গিয়ে দরজা বন্ধ পাই। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজার ফাঁকা দিয়ে দেখতে পাই, তারা দুজনেই ঝুলছে। তাৎক্ষণিক বাড়ির মালিক ও আশপাশের লোকজনদের জানাই। পুলিশকে সংবাদ দেওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে দরজার পাল্লা  খুলে ফেলা হয়।”

পুলিশ জানায়, ফ্যানের হুকের সঙ্গে ওড়নার দুই মাথায় দুইজন ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।