ঢাকায় জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী সরকারি দপ্তরের সমন্বয়হীনতা

প্রতিবছর জলাবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় রাজধানীবাসীকে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় দুই সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট। এমন চিত্র দেখা যায় গত ৫ ও ৬ অক্টোবর। এই দুই দিনে রাজধানীতে কখনো মুষলধারে, কখনো মাঝারি, কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

একটানা এক ঘণ্টা বৃষ্টিতে বিশেষ করে মতিঝিল, বাড্ডা, মালিবাগ, রামপুরা, শান্তিনগর, মৌচাক, বেইলি রোড, কাকরাইল, গুলিস্তান, শাহবাগ, বাংলামোটর, ধানমন্ডি, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, মিরপুর, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ভাটারা, বসুন্ধরা, খিলক্ষেতসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়।

পানিতে তলিয়ে থাকা ঢাকার বিভিন্ন সড়কে মধ্যরাতেও আটকে ছিল শত শত গাড়ি। এছাড়া এর আগে মিরপুরে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যুও হয়েছে।

জানা যায়, রাজধানীর পানি নিষ্কাশনের পথগুলো আবর্জনায় ভরে থাকায় দ্রুত পানি নামতে পারেনি। ফলে ভয়াবহ ওই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কারণ হিসেবে রাজধানীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ঢাকার খাল ও নর্দমাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারেও সেবা সংস্থাগুলোর মনোযোগ কম।

জানা যায়, বৃষ্টি হলে রাজধানীর পানি তিনটি মাধ্যমে চারপাশের নদ-নদীতে চলে যায়। এর একটি পাম্প-স্টেশন, বাকি দুটি স্লুইস গেট ও খাল। ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতাধীন স্লুইসগেটগুলোর বেশিরভাগই অকেজো। আর খালগুলো পানিপ্রবাহের জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত নয়। এসব কারণেই নগরবাসীকে প্রতি বছর জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

রাজধানীর কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) পাম্প-স্টেশন দিয়ে মিনিটে ৮,৫৫,০০০ লিটার পানি নিষ্কাশন করা যায়। কিন্তু ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পরও স্টেশনটি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এর কারণ, স্টেশনটিতে পানি যাওয়ার জন্য যেসব নালা-নর্দমা ও বক্স কালভার্ট রয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি সচল নয়।

৯ আগস্ট টানা প্রায় এক ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়/ঢাকা ট্রিবিউন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান এ বিষয়ে বলেন, “ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনে এ পর্যন্ত প্রায় ২২৫ কোটি টাকা খরচ করেছে। খাল সংস্কার, ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ থেকে এখনও নগরবাসীকে পুরোপুরি মুক্ত করতে পারেনি।”

এর মূল কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতার অভাব। আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেছে ড্রেনের মুখগুলো। এছাড়া প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ড্রেন ও নালা থাকলেও, তা আবর্জনায় ঢাকা পড়ে গেছে। তাই ভারী বৃষ্টিপাতে সড়কের পানি দ্রুত নামতে পারে না, ফলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।”

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, “ঢাকার মাত্র ৩০% এলাকা পরিকল্পিত। বাকি ৭০% এলাকায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সরকারের রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মধ্যেও বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এতে জনক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “যেসব নালা-নর্দমা হয়ে পানি পাম্পস্টেশনে যাবে, সেগুলোর যথেষ্ট পানিপ্রবাহ নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থায় সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। তাই পরিকল্পিতভাবে স্থায়ী সমাধানে দুই সিটিকে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে যথাযথভাবে হয়নি ড্রেনেজ, খাল ও বক্সকালভার্ট পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। সিটি কর্পোরেশন ও সরকারের অন্য সংস্থার মধ্যে নেই কোনো সমন্বয়। ফলে জলাবদ্ধতার জন্য একে অন্যকে দায়ী করেই বছর পার করছে সংস্থাগুলো। বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে প্রতিটি কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অর্থ খরচ করলেই হবে না। জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “বেশিরভাগ সড়কে আবর্জনা পড়ে পানি নিষ্কাশনে ড্রেনের মুখগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এসব আবর্জনার মধ্যে পলিথিনের ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল, বিভিন্ন খাবারের উচ্ছিষ্ট, গ্লাস ভাঙা, ময়লা কাপড় ও কাগজের ছেঁড়া অংশ ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।”

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে জলাবদ্ধতা/মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

এ বিষয়ে ঢাকার বাসিন্দা আসিফ বলেন, “এসব ড্রেনের মুখগুলো সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের নিয়মিত পরিষ্কার করার কথা। কিন্তু ছয় মাসেও তা পরিষ্কার হচ্ছে না। শুধু লোক দেখানো রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া হলেই চলবে না, সময়মতো প্রতিটি ড্রেনেজ পরিষ্কার রাখতে হবে।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটির নয়াপল্টন, সেগুনবাগিচা, কাকরাইল, শান্তিনগর, শাহজাহানপুর, মতিঝিল ও কমলাপুরের পানি এসব এলাকার নালা–নর্দমা ও কালভার্ট হয়ে টিটিপাড়া পাম্পস্টেশনে গিয়ে জমা হয়। কিন্তু এগুলো পুরোপুরি সচল নয়।

আর ধোলাইখালের পাম্প-স্টেশন হয়ে পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়া, সূত্রাপুর, ওয়ারীসহ কয়েকটি এলাকার পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়ে। এই স্টেশনে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি পাম্প দিয়ে ঘণ্টায় ৮,১০,০০০০০ লাখ লিটার পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব। এ স্টেশনেও ঠিকমতো পানি জমা হয় না।”

দুই সিটি কর্পোরেশনের তথ্যে জানা যায়, রাজধানীতে ঢাকা ওয়াসা রক্ষণাবেক্ষণ করে ৩৮৫ কিলোমিটার গভীর ড্রেন ও চারটি পাম্প স্টেশন এবং ১০ কিলোমিটার বক্স কালভার্ট। পানি উন্নয়ন বোর্ড রক্ষণাবেক্ষণ করে ৫২টি স্লুইস গেট এবং একটি পাম্প স্টেশন, রাজউক রক্ষণাবেক্ষণ করে ২৫ কিলোমিটার লেক ও ৩০০ কিলোমিটার জলাশয়।

ডিএনসিসির ১,২৫০ কিলোমিটার ড্রেনেজ লাইন রয়েছে এবং ডিএসসিসির রয়েছে ৯৬১ কিলোমিটার ড্রেনেজ লাইন। এছাড়া বর্তমানে ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতায় দেওয়া হয়েছে ২৬টি খাল।

তবে স্থানীয়রা জানান, সব খাল ও ড্রেনেজ রক্ষাণাবেক্ষণের অভাবে ভরাট হয়ে যায়। তাই সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “সেদিন একটানা কয়েক ঘণ্টায় ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, তাই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। খালগুলোকে আমরা ভরাট করে ফেলছি, দখল করছি। এছাড়া যেখানে-সেখানে পলিথিন, বোতল ও আবর্জনা ফেলছি। সেগুলো গিয়ে ড্রেনে পরে পানি নামায় বাধা দিচ্ছে। ফলে পানিপ্রবাহ নষ্ট হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং পানি নেমে যেতেও সময় লাগছে। পরে পানি নামছে, তবে সময় লাগছে।”

ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় জলাবদ্ধতা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩/মাহমুদ হোসেন অপু/ঢাকা ট্রিবিউন

মেয়র বলেন, “এক সময় শেওড়াপাড়া, মধুবাগ, খেজুরবাগান, সংসদ ভবনের পাশের রাস্তা, নেভির সামনের রাস্তা ডুবে যেত। এখন কিন্তু সেই পরিস্থিতি নেই। জলাবদ্ধতা হয়, আবার পানি নেমেও যায়। ঢাকা শহরের অলিগলি ২০ ফুটের কম হলে আমরা রাস্তার জন্য বরাদ্দ দেব না। এটা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ ২০ ফুটের কম রাস্তা হলে সেখানে ড্রেন করার জায়গা থাকে না। এখনও অনেক রাস্তা আছে যেগুলো ২০ ফুটের কম রাস্তা। সেগুলোতেই মূলত জলাবদ্ধতার সমস্যা বেশি দেখা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় বোতল, পলিথিন, নানা আবর্জনা আমরা ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে ফেলছি। সেগুলো গিয়ে ড্রেনের মধ্যে ঢুকছে, সেগুলোই পানি নামতে সমস্যা করছে। তাই জলাবদ্ধতা কমে যেতে বা পানি সরে যেতে কিছুটা সময় লাগছে।”

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, “আমরা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ১০টি র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম গঠন করে দিয়েছি। তারা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে এবং এই জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। আমরা কিন্তু বসে নেই। আমরা কাউন্সিলররাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছি।”

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, “খালগুলোকে আমরা ভরাট করে ফেলছি, দখল করছি। ড্রেনে বিভিন্ন জিনিস ফেলে, পানি নামতে বাধা সৃষ্টি করছি। সব মিলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের এখন চ্যালেঞ্জ হল রাস্তাগুলো ২০ ফুট করতে হবে। আর অলিগলিতে যেসব যেসব ড্রেন আছে, সেগুলোকে আমরা বড় করার কাজ শুরু করেছি। যাতে করে দ্রুত পানি নেমে যেতে পারে। দক্ষিণখান ও আজমপুরে আমরা এই কাজগুলো ইতোমধ্যে শুরু করেছি।”

মেয়র বলেন, “মিরপুর ১০ নম্বর থেকে শেওড়াপাড়ার দিকে যে রাস্তা এটাতে আগে জলাবদ্ধতা হলে দুই তিন দিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকত। আমরা কিছু কাজ করার ফলে এখন কিন্তু সেখানে ওইরকম জলাবদ্ধ থাকে না। সব ড্রেনের ডায়মিটার কিন্তু এক না। অলিগলিতে একটু ছোট লাইন, সেখান থেকে পানি আসবে বড় লাইনে, এরপর সেখান থেকে পানি খালে নামবে। সেহেতু পানি সরে যেতে কিছুটা সময় দিতে হবে।”

ময়লা পানিতে ভিজে একাকার হয়েই ছুটছেন মোটরসাইকেল চালকরা/ঢাকা ট্রিবিউন

জলাবদ্ধতা বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। গত তিন বছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজস্ব অর্থায়নে ২২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩৬টি স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নে কাজ হয়েছে। আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে জলাবদ্ধতা কমে আসবে।”

আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আগামী তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার আশাবাদ জানিয়ে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, “এটি অত্যন্ত দুরূহ ও বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রকল্প প্রণয়ন করা, প্রকল্প থেকে অর্থসংস্থান পাওয়া, তারপরে দরপত্র করে কাজ শুরু করা, এগুলো অনেক দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে পড়ে যায় এবং দীর্ঘসময় লাগে। এজন্য আমাদের যেসব কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে সেসব কাজ এগিয়ে নিতে আমরা তা নিজস্ব অর্থায়নেই করে চলেছি। হাতিরঝিলের মতো দীর্ঘ ১০ বছর সময় যেন না লাগে সেজন্যই আমাদের এই কর্মকৌশল।”

শেখ তাপস বলেন, “গত বছর আমরা যখন (বর্জ্য অপসারণ, দখলদার উচ্ছেদ ও সীমানা নির্ধারণ) শুরু করি তখন কিন্তু এটার নদীর অববাহিকা ছিল না। আমরা সেই কাজটি করতে পেরেছি। এখন পানি প্রবাহ হচ্ছে। পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে। সুতরাং প্রাথমিক কাজটা আমরা সম্পন্ন করেছি।”

তিনি বলেন, “আমরা যদি প্রকল্পের জন্য অপেক্ষা করতাম তাহলে এই কাজটায় এতদিনে কিছুই হতো না। আমরা আশা করছি, প্রকল্প পাশ করে কাজ সম্পন্ন করতে হয়তোবা তিন বছর সময় লেগে যেতে পারে। এর মধ্যে নিজস্ব উদ্যোগের আমরা কাজগুলো চালিয়ে যাব।”