রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোকেনের একটি বড় চালান ধরা পড়েছে। কাতার এয়ারের ফ্লাইটে আসা যাত্রী আফ্রিকান নাগরিককে ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম কোকেনসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফপ্তর অভিযান চালিয়ে ওই নারী যাত্রীকে আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃত নমথেনদাজো তাওয়েরা সোকোর (৩৫) বাড়ি দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাউইয়ে। ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম কোকেনসহ তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। উত্তরার একটি অভিজাত হোটেলে তার নামে রুম বুকিং করা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে আমরা এই অভিযান চালাই। তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশনের আগেই এই যাত্রীকে আটক করা হয় এবং তল্লাশি করে কোকেন পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সন্ধানে রাতে আরও অভিযান চালানো হয়েছে।”
তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ৮ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় অভিযানিক দল কাতার এয়ারলাইন্স ফ্লাইটে (কিউআর ৬৩৮) অভিযান চালায়। সেই ফ্লাইটে মালাউই নাগরিক নমথেনদাজো তাওয়েরাকে পাওয়া যায়। এ সময় তাকে চিহ্নিত করে নজরদারিতে রাখা হয়।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিসা অন অ্যারাইভাল ডেস্ক এসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন তিনি। তবে তাকে ভিসা দেয়নি ইমিগ্রেশন পুলিশ। রাত ৮টার দিকে ভিসা না পাওয়ায় তাকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের দল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে তার লাগেজে অবৈধ মাদকদ্রব্য কোকেন আছে।
মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, এই যাত্রীর বেগুনি রঙের লাগেজটি তল্লাশি করা হয়, লাগেজের সামনের ও পেছনের অংশে বিশেষভাবে তৈরি করা চেম্বারে লুকায়িত অবস্থায় স্কচটেপ মোড়ানো দুটি পলিথিনের প্যাকেট পাওয়া যায়। যেখানে “ক” শ্রেণির মাদকদ্রব্য কোকো পাওয়া যায়। যার ওজন ৬৮০০ গ্রাম। এছাড়া ব্যাগে রক্ষিত কালো বর্ণের একটি বড় পোর্টফোলিওর উভয় কভারে বিশেষভাবে লুকায়িত স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো পলিথিন প্যাকেটে আরও কোকেন পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন মানের মুদ্রা, হোটেল রিজারভেশন ও ইনভাইটেশন লেটার উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় বুধবার রাতেই বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় নমথেনদাজো তাওয়েরাকে ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।