নতুন রূপে সেজেছে রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম মহাখালী ফ্লাইওভার। রং-তুলির আঁচড়ে মহাখালী ফ্লাইওভারে ফুটে উঠছে নান্দনিক চিত্রকর্ম। আবহমান বাংলা এবং দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারণ করে এসব চিত্রকর্ম আঁকা হচ্ছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষে হতে এখনও বাকি। তবে ইতোমধ্যে ফ্লাইওভারের উল্লেখযোগ্য অংশ ছেয়ে গেছে রঙিন চিত্রকর্মে।
ফ্লাইওভারের নান্দনিক এসব চিত্রকর্মে মুগ্ধ নগরবাসীদের। তারা বলছেন, এখন জীবন্ত মনে হচ্ছে শহরকে। এভাবে ঢাকার বড় স্থাপনা ও দেয়ালকে রঙিন করে সাজালে ঝিমিয়ে পড়া শহরকে আরও প্রাণবন্ত মনে হবে। মানুষের রুচি ও ভাবনায় পরিবর্তন আসবে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের সহযোগিতায় মহাখালী ফ্লাইওভারে স্ট্রিট আর্ট শুরু হয়। আগামী মার্চের মধ্যে পুরো ফ্লাইওভার রাঙানোর কাজ শেষ হবে।
এর আগে ঢাকার মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারেও এ ধরনের চিত্রকর্ম করিয়েছে ডিএনসিসি। যা নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মহাখালী ফ্লাইওভার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি অংশে চিত্রকর্মের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলমান। বাংলা ভাষা, গ্রাম্য মেলার টেপা পুতুল, পাখি, বাউল, আল্পনাসহ শহরের রিকশা, বাসের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে ফ্লাইওভারজুড়ে।
এছাড়া, ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে চলাচল করা মানুষজনের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে “গাছা বাঁচাও জীবন বাঁচাও”, “হর্ন বাজানো নিষেধ”, “বাঁচলে দেশ আমরা বাঁচবো বেশ”; এমন নানান স্লোগান লেখা আছে চিত্রকর্মের মাঝে।
মহাখালী ফ্লাইওভারটি সাজাচ্ছেন মো. রাসেল রানা ও শাকিল মৃধা নামে দুই শিল্পী। তাদের নির্দেশক হিসেবে আছেন আরিফ সিদ্দিক নিটল ও তাহসিনা ফেরদাউস রিনিয়া।
চিত্রকর্মের বিষয়ে শিল্পীরা জানান, মহাখালী ফ্লাইওভার সাজাতে তারা “ফোক সাবজেক্ট” বেছে নিয়েছেন। কারণ, এই চিত্রকর্ম সব শ্রেণির মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। এছাড়া চিত্তাকর্ষক করতে ফোক এবং দেশীয় আল্পনার একটা সমন্বয় করা হয়েছে। এতে উৎসব বিষয়টি ফুটে উঠছে। যাতে ক্লান্ত পথিকের মনে রঙ ছুঁয়ে যায়।
উপরে চিত্রকর্ম ছাড়াও ফ্লাইওভারের নিচে ফাঁকা জায়গায় টেবিল টেনিস এবং দাবা খেলার বোর্ডের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।
ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, শহরকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করতেই এই উদ্যোগ। সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি ফ্লাইওভারের বিভিন্ন পিলারে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে, যাতে কেউ এসব চিত্রকর্ম নষ্ট করতে না পারে। এই দৃষ্টিনন্দন স্ট্রিট আর্টের ওপর পোস্টার লাগালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।