মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেল এসে পড়ল বান্দরবানের বসতবাড়ির উঠানে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্ত পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে গুলি, মর্টরশেল এসে পড়ছে।

মিয়ানমারের হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া মর্টার শেল ঘুমধুম সীমান্তের জলপাইতলীর একটি বাড়িতে বিস্ফোরিত হয়ে সোমবার এক বাংলাদেশি নারী ও রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।

এবার মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেল এসে পড়েছে ঘুমধুম ইউনিয়নের মধ্যমপাড়ার একটি বসতবাড়িতে। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়া) সকাল ৯টার দিকে ঘটনা ঘটে।

মর্টার শেলটি ওই এলাকার সৈয়দ নুর শিকদারের বাড়ির উঠানে এসে পড়ে। এতে কেউ হতাহত না হলেও বসতঘরের কাচের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান এমকেএম জাহাঙ্গীর আজিজ।

তিনি বলেন, “মঙ্গলবার ভোর থেকে ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে ঢেকোবুনিয়া এলাকায় তুমুল গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ একটি মর্টার শেল এসে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে নুরুল ইসলামের বাড়ির সীমানার একটি গাছে এসে লাগে। তারপর সেটি ছিটকে গিয়ে সৈয়দ নুর শিকদারের বসত ঘরের এক পাশে আঘাত করে।”

এদিকে, মিয়ানমার সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশিদের মধ্যে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। বন্ধ রাখা হয়েছে সীমান্তবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। তা স্বত্ত্বেও এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মিয়ানমারের সেনাসদস্য, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্য বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ফেরত পাঠাতে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।