অসহযোগিতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণসহ বিভিন্ন কারণে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সংবাদ বয়কট করেছেন দিনাজপুরের সাংবাদিকরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল।
শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় খাদ্যমন্ত্রীর অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযান বয়কট করেন সাংবাদিকরা। এরপর তারা দিনাজপুর প্রেসক্লাবে নোটিশ দেন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযান পরিচালনার কর্মসূচি ছিল খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের। নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনাজপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছে যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা। নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে অভিযানের বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘসময় কালক্ষেপণ করার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিএসডি গোডাউন পরিদর্শনে যান খাদ্যমন্ত্রী। সকাল ১১টার দিকে শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে আমবাড়ী এলাকার একটি মিলে অভিযানে যান তিনিসহ সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি তারা কোন দিকে যাচ্ছেন, সে বিষয়েও জানানো হয়নি, তাদের সঙ্গে যেতেও বলা হয়নি। ফলে সিএসডি গোডাউন থেকেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাংবাদিকরা। সেখান থেকে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকরা খাদ্যমন্ত্রীর সব অভিযান ও সেই সম্পর্কিত সংবাদ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চালের বাজার নির্ধারণে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা থেকেও সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া হয়। ওই সভাটি বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মন্ত্রী আসেন সন্ধ্যা ৬টার দিকে। এসেই ১০ মিনিটের জন্য ছবি সংগ্রহ করে মতবিনিময় সভা থেকে সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং প্রশ্নের জবাব দেবেন বলে জানান।
রাত ৯টার দিকে সভা শেষ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেননি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। অনেক সাংবাদিক প্রশ্ন করলেও মন্ত্রী উত্তর না দিয়েই চলে যান। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা।
এ বিষয়ে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল বলেন, “খাদ্যমন্ত্রীর সফরসূচি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার প্রতিবাদে দিনাজপুরের সাংবাদিকরা সংবাদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খাদ্যমন্ত্রীর কোনো নিউজ ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট এবং স্থানীয় পত্রিকায় যাবে না।”
দিনাজপুর টেলিভিশন ক্যামেরাম্যান জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, “বৃহস্পতিবার মতবিনিময় সভায় ১০ মিনিটের জন্য ভিডিও ধারণ করার সময় দেওয়া হয়। কিন্তু এত দ্রুত সব ছবি সংগ্রহ করতে পারেনি অনেক সংবাদকর্মী। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সবাইকে বের করে দেওয়া হয়। এটি এক প্রকার অসহযোগিতা। শুক্রবার সকালেও আমাদের অসহযোগিতা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।”