পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর

১৫ বছর আগে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি) সদর দপ্তর ঢাকার পিলখানায় বিদ্রোহ হয়। সেদিন বিডিআরের কয়েকশ’ সদস্য পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালান। প্রায় দুই দিনব্যাপী চলা বিদ্রোহে বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। সব মিলিয়ে ৭৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পিলখানায় বিডিআরের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেদিন নৃশংসতার শিকার হন।

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) পিলখানা হত্যাযজ্ঞ দিবস। এদিন সেদিনের দুঃসহ স্মৃতির স্মরণে শাহাদাতবার্ষিকী পালন করবে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হবে।

পিলখানায় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক মামলা হয়। এর মধ্যে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামি করা হয় ৮৫০ জনকে। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটিই সবচেয়ে বড় মামলা। বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলার রায় দেন।

রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে খালাস পান ২৭৮ জন। রায় ঘোষণার আগে চার আসামি মারা যান।

পরে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। আট জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চার জনকে খালাস দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। বর্তমানে মামলাটির শুনানি চলছে আপিল বিভাগে।

অন্যদিকে, বিস্ফোরক মামলায় এখনও সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে নিম্ন আদালতে। গত ১৫ বছরে এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে ২৭৩ জনের। এ মামলায় ১,১৬৪ সাক্ষীর মধ্যে ১৫ বছরে সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ২৭৩ জন। আরও প্রায় ১০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার কার্যক্রমের ইতি টানা হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ মামলার ৮৩৪ আসামির মধ্যে ৪৪ জন এরইমধ্যে মারা গেছেন। ১৯ আসামি পলাতক আছেন। ৭৭১ আসামি কারাগারে আছেন বলে জানা গেছে।

বিদ্রোহের বিচার

২০০৯ সালে বিদ্রোহ ও হত্যাযজ্ঞের সেই ঘটনার পর বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআরকে পুনর্গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীর নাম হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিচার হয়েছে এই বাহিনীর নিজস্ব আইনে, যা সামারি ট্রায়াল (সংক্ষিপ্ত বিচার) নামে পরিচিত। তাতে ১০,৯৭৩ জনকে বিভিন্ন ধরনের সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮,৭৫৯ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অন্যরা প্রশাসনিক দণ্ড শেষে আবার চাকরিতে যোগ দেন।

এছাড়া সারা দেশে বিশেষ আদালত গঠন করে বিদ্রোহের বিচার করা হয়। বিশেষ আদালত ৫৭টি মামলায় ৫,৯২৬ জন জওয়ানকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। বিশেষ আদালতে বিচার চলার সময় মারা গেছেন ৫ জন।

পিলখানা হত্যাযজ্ঞ দিবসের কর্মসূচি

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে শাহাদাতবার্ষিকী পালন করবে সেনাবাহিনী। দিনের কর্মসূচি হিসেবে রবিবার সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান।

এদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে শাহাদাতবার্ষিকী পালন করা হবে। পিলখানাসহ বিজিবির সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও নিহতদের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হবে।