অভিযানের খবরে বন্ধ খিলগাঁওয়ের বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট

ভবনে থাকা রেস্টুরেন্টগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকার খিলগাঁওয়ে অভিযানে নেমেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও ফায়ার সার্ভিস।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দুপুর পৌনে ১২টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযান পরিচালনা করছেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম।

খিলগাঁও তালতলা এলাকার শহীদ বাকি সড়কের আশপাশে শতাধিক রেস্টুরেন্ট আছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এসব রেস্টুরেন্টগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিতে থাকেন কর্মচারীরা। যেগুলো বন্ধ হয়নি সেগুলোতে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

অভিযানের শুরুতেই সাততলা নাইটিঙ্গেল স্কাইভিউ টাওয়ারে প্রবেশ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমসহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। ভবনটির নিচ তলায় একটি কাপড়ের শোরুম আর বেসমেন্ট, ছাদসহ বাকি সবগুলো তলাতেই রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি হলো- “পাস্তা ক্লাব”, “সুইট অ্যান্ড স্যাভরন”, “শর্মা কিং”, “ক্যাফে আইপ্যানেমা”।

রেস্টুরেন্টগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি খুঁজতে খিলগাঁওয়ে অভিযানে নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস/আহাদুল করিম খান/ঢাকা ট্রিবিউন

অভিযানের সময় “শর্মা কিং” বাদে বাকি সবগুলো রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকতে দেখা যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসার খবর পেয়ে রেস্টুরেন্টগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়েছেন বলে জানা যায়।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, “ছাদসহ ভবনটির সবগুলো ফ্লোর পরিদর্শন করেছি। অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভবনটি অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমরা একটি ব্যানার টানিয়ে সিলগালা করে দিয়েছি।”

এর আগে, সোমবার ঢাকার ধানমন্ডি, ওয়ারীসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশত রেস্টুরেন্টে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে বেশকিছু রেস্টুরেন্ট সিলগালা করে দেওয়া হয়।

২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যারা শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ভবনটি থেকে কমপক্ষে ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে।

এ অগ্নিকাণ্ডের পর পরই ঢাকার বিভিন্ন ভবনে রেস্টুরেন্ট তৈরি নিয়ে উদ্বেগ জানান বিশেষজ্ঞরা। এরপর থেকে অভিযান শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ভবনের অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি।