ব্যবহার করতেন ছদ্মনাম, মৃত্যুর পর তাই পরিচয় নিয়ে সৃষ্টি হয় বিভ্রান্তি। অবশেষে জানা গেল ২৯ ফেব্রুয়ারি বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ডে নিহত নারী সাংবাদিকের আসল পরিচয়। তার নাম বৃষ্টি খাতুন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বেইলি রোডের আগুনে মৃত্যুর পর নারী সাংবাদিকের বাবা-মা পরিচয়ে মরদেহ দাবি করে আসছিলেন সবুজ শেখ এবং বিউটি খাতুন। অবশেষে তাদের ডিএনএর সঙ্গেই মিল পাওয়া গেল লাশের থেকে সংগৃহীত নমুনার।
রবিবার (১০ মার্চ) এসব তথ্য জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ঢাকার ইডেন কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্রী বৃষ্টি বেইলি রোডের গ্রিন কোজি ভবনের আগুনে মৃত ৪৬ জনের একজন। সাততলা ভবনটিতে সেদিন নিহতদের বেশিরভাগই সেখানে গিয়েছিলেন বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করতে।
মৃত্যুর পর নারী সাংবাদিককে বন্ধুবান্ধব ও সাবেক সহকর্মীরা চিহ্নিত করেন অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নামে। কিন্তু, বাবা-মা প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিলেন মেয়েটির নাম বৃষ্টি।
এদিকে, সবুজ ও বিউটি মুসলিম ধর্মাবলম্বী। কিন্তু অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নামটি হিন্দু ঘরানার। এ নিয়ে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। অবশেষে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের ১১ দিন পর তার আসল পরিচয় জানা গেল।
বৃষ্টি ছিলেন দ্য রিপোর্ট লাইভ নামে একটি অনলাইন পোর্টালের রিপোর্টার। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বনগ্রামে। জন্ম নিবন্ধন, কলেজের সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম বৃষ্টি খাতুনই।
সিআইডির উপ-মহাপরিদর্শক একেএম নাহিদুল ইসলাম জানান, শনিবার তার ডিএনএ পরিচয় শনাক্ত হয়।
তিনি বলেন, “মামলার (আগুনের ঘটনায় দায়ের) তদন্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবেন।”
তবে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উৎপল বড়ুয়ার ভাষ্য, এ বিষয়ে সিআইডি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কিছু জানায়নি।
তিনি বলেন, “ডিএনএ নমুনা মিলে থাকলে অবশ্যই তার মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বৃষ্টির বাবা-মা জানান, তারা মেয়ের লাশের জন্য অপেক্ষা করছেন। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিএনএ নমুনার বিষয়ে তাদের কেউ কিছু জানায়নি।