নির্মাণকাজ আরও ৫% বাকি থাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল হস্তান্তরে আরও ছয় মাস লাগতে পারে বলে জানা গেছে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আগামী সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃতীয় টার্মিনাল বুঝে নেয়ার কথা রয়েছে সিভিল এভিয়েশনের।
এভিয়েশন এ্যাপেক্সের শীর্ষ এক কর্মকর্তা শনিবার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ঈদ-উল-ফিতরের ছুটির পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাকি কাজ করতে পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএএবি চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান বলেন, প্রকল্পের প্রায় ৫% কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইনস্টলেশন, ক্যালিব্রেশন ও যন্ত্রপাতির প্রি-টেস্টিং।
এর আগে, ঘোষণা করা হয়েছিল সিএএবি শনিবার তৃতীয় টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নেবে, কারণ নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে একটি ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম (ডিএএস) ও একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোর মূল অংশগুলো এখনও সম্পূর্ণ করা হয়নি।
ডিএএস পদ্ধতি মোবাইল নেটওয়ার্কের কভারেজের মধ্যেও কাজ করে, তবে এটি মূল প্রকল্পে ছিল না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তৃতীয় টার্মিনালের নরম উদ্বোধনের আগে বাদ পড়েছিল।
এছাড়া টার্মিনালে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে, যা সম্ভাব্য নিরাপত্তা দুর্বলতা সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়ায়।
এর আগে দেখা গেছে, একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু যথাযথ নিরাপত্তা পরীক্ষা ছাড়াই একটি বিমানে চড়ে বসেছিল। ফলে এই নিরাপত্তা ঘাটতির দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও সিএএবি-এর কর্মকর্তারা কীভাবে প্রকল্প পরিকল্পনা পর্যায়ে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উপেক্ষা করা হয়েছিল তা তুলে ধরেন।
ঢাকা ট্রিবিউনের সাম্প্রতিক তদন্তে দেখা গেছে, সিএএবি মূল প্রকল্প অনুযায়ী ডিএএস পদ্ধতি না চালু করতে পারায় টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ নকশায় পরিবর্তন এনেছে। এই বিচ্যুতি অতিরিক্ত খরচের কারণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিএএবি থেকে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব অস্বীকার করা সত্ত্বেও, পরিস্থিতি সংশোধন করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিষেবা সংস্থা এশিয়াটিক ৩৬০ একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা অনুযায়ী টার্মিনালের মধ্যে আংশিক মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজের কাজ পেয়েছে।
সিএএবি ডিএএস চালুর বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অফ বাংলাদেশের (এএমটিওবি) সাথে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে।