ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চের ছেঁড়া দড়ির আঘাতে পাঁচ যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করেছে।
একই ঘটনায় পাঁচজনকে আটকও করেছে পুলিশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে লঞ্চের ছিঁড়ে যাওয়া রশির আঘাতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের পন্টুনে থাকা একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচ যাত্রী প্রাণ হারান।
এর পরপরই বিআইডব্লিউটিএ এমভি ফারহান-৬ ও এমভি তাসরিফ-৪ এর রুট পারমিট বাতিল করে।
আর নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, “তাসরিফ-৪ এবং ফারহান-৬ নামের লঞ্চের পাঁচজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আমরা তাদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসা করছি। এখনো মামলা রুজু হয়নি। তাই তাদের গ্রেপ্তার বলা যাবে না।”
এদিকে, দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (ক্রয় ও সংরক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলামকে। এছাড়া নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আজগর আলী এবং বন্দর শাখার যুগ্ম পরিচালক মো. কবীর হোসেনকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
এই কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন পেশ করার জন্য বলা হয়েছে।
বিকেলের দুর্ঘটনায় মৃতরা হলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার মাটিচোরা গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে বিল্লাল (২৫), তার স্ত্রী মুক্তা (২৬), তাদের মেয়ে মাইশা (৩); পটুয়াখালী সদরের জয়নাল আবেদিনের ছেলে রিপন হাওলাদার (৩৮) এবং ঠাকুরগাঁও সদরের নিশ্চিতপুর এলাকার আব্দুল্লাহ কাফীর ছেলে রবিউল (১৯)।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এমভি তাসরিফ-৪ ও এমভি পূবালী-১ রশি দিয়ে সদরঘাটের ১১ নম্বর পন্টুনে বাঁধা ছিল। এ দুটি লঞ্চের মাঝখান দিয়ে এমভি ফারহান-৬ নামের আরেকটি লঞ্চ ঢুকানোর সময় এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে যায়। ওই রশির আঘাতেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। কেউ কেউ পাশে থাকা লঞ্চের সঙ্গে বাড়িও খায়।
নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, “ওই যাত্রীরা পন্টুনে ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ছিঁড়ে যাওয়া রশির আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়।”