জব্বারের বলী খেলায় প্রথমবারেই চ্যাম্পিয়ন ‘বাঘা শরীফ’

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলী খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা ফরিদ। তিনি স্থানীয়দের কাছে “বাঘা শরীফ” নামে পরিচিত। রানার্স আপ হয়েছেন একই জেলার রাশেদ। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন খাগড়াছড়ির সৃজন চাকমা।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হন বাঘা শরীফ ও রাশেদ। প্রথমবার অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছেন “বাঘা শরীফ”।

প্রায় ১১ মিনিট খেলার পর রাশেদ নিজেই পরাজয় শিকার করে শরীফের হাত তুলে ধরেন। ফলে রেফারি শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

এ সময় চ্যাম্পিয়ন “বাঘা শরীফ” নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, “গতবারের চ্যাম্পিয়ন শাহজালাল বলী খেলায় অংশ না নিয়ে আমাকে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।”

অন্যদিকে রানার্স আপ মো. রাশেদ বলেন, “আমি আগে বলীখেলায় অংশ নেইনি। আমাকে জব্বারের বলী খেলায় নিয়ে এসেছেন শরীফ ভাই। তিনি আমার সিনিয়র। তাই তাকে জয়ী করে দিয়েছি। চ্যাম্পিয়ন শরীফ ভাইয়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমার জন্যেও দোয়া করবেন।”

এর আগে বিকেল ৪টায় শুরু হয় বলী খেলার ১১৫তম আসর। এবারের আসরে ৮৪ জন বলী অংশ নেন।

খেলা শুরুর আগেই নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন শাহজালাল বলী ও রানার্স আপ তরিকুল ইসলাম জীবন বলী। বাঘা শরীফকে সুযোগ করে দিতেই নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন বলে জানান তারা।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে দেশের যুব সমাজকে সংগঠিত করতে ১৯০৯ সালে স্থানীয় আব্দুল জব্বার সওদাগর নগরীর লালদিঘী মাঠে আয়োজন করেন কুস্তি প্রতিযোগিতা। পরবর্তীতে সেটি আব্দুল জব্বারের বলী খেলা নামে পরিচিত হয়। এর জনপ্রিয়তা এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে বৈশাখ মাসের ১২ তারিখে লালদিঘীর ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এই খেলা। খেলার আগের দিন থেকে শুরু করে পরদিন পর্যন্ত তিন ধরে লালদিঘীর মাঠ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে বসে বৈশাখী মেলা।