কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।

রবিবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে এমন ঘোষণা দেন পরিষদের সদস্য সচিব মো. শাহজাহান।

সমাবেশে মো. শাহজাহান বলেন, “শনিবার শিক্ষকদের সঙ্গে সরকারের একটি বৈঠক হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, কর্মকর্তা কর্মচারীদের যারা প্রতিনিধি আছে তাদেরকেও ডাকা হবে। কিন্তু আমাদের ডাকা হয়নি। তবে আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তাদের আমরা জিজ্ঞেস করেছি আমাদের ব্যপারে কোনো কথা হয়েছে কি-না। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, পুরো প্রত্যয় স্কিম নিয়েই আলোচনা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “কিন্তু যদি আমাদের (কর্মকর্তা-কর্মচারী) বিষয়ে ফলপ্রসূ কোন আলোচনা না হয়ে থাকে। আমাদেরকে বাদ দিয়ে কিছু করা হয় তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না। দাবি আদায় হওয়ার আগ পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলতে থাকবে।”

সর্বজনীন পেনশনের “প্রত্যয়” কর্মসূচি নিয়ে প্রজ্ঞাপন বাতিল করাসহ তিন দফা দাবিতে ১ জুলাই থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একযোগে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন। এ কারণে ক্লাস পরীক্ষা হচ্ছে না। প্রশাসনিক ভবনেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

 

এই পরিস্থিতিতে শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৈঠকের পর বিষয়টি নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি ছিল উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আওতায় সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সবাই যুক্ত হবেন ২০২৫ সালের ১ জুলাই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে পেনশনে যোগদানের বিষয়ে তথ্য ছিল, সেটা সঠিক নয়। তাদের তিনটা দাবির মধ্যে এটাও একটা দাবি। সবার মতো তারাও ২০২৫ সালের ১ জুলাইয়ে যোগ দেবেন, এটা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, “বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ শিক্ষক নেতা এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, একটা বিষয়ে ভুল-বোঝাবুঝি মিটেছে। অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক আখতারুল ইসলাম বলেছিলেন, তারা আলোচনা করেছেন। আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে। আলোচনা শুরু হওয়ায় তারা খুশি। অনলাইনে (জুমে) ফেডারেশনের সভা হবে। সেখানেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আজ সভা শেষে তিনি জানালেন তাদের কর্মসূচি চলবে।

সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আখতারুল ইসলাম বলেন, “আজকের সভায় গতকালের বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং এ নিয়ে বিস্তারিত অবহিত হয়েছে। যেহেতু আমাদের দাবি পূরণ হয়নি তাই আমাদের আন্দোলন চলছে এবং চলবে। তবে, গতকালের বৈঠকে আমাদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। তাই আশা করছি আমাদের দাবি পূরণ হবে।”