সর্বজনীন পেনশনের “প্রত্যয়” স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের সার সংক্ষেপ অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার (৩ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে দীর্ঘদিন ধরে এ ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এর অংশ হিসেবে দেশের সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছিল কর্মবিরতি। এরমধ্যে বৈঠক হয় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে। তবে তাতে কোনো সমাধান আসেনি। আজ নতুন এ ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে সরকারের সর্বজনীন পেনশন স্কিম “প্রত্যয়”-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর প্রতিবাদে আন্দোলনের ঘোষণা দেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের দাবি ছিল—সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিল করা। এর সঙ্গে যোগ করা হয় ২০১৪ সালে আশ্বাস দেওয়া শিক্ষকদের জন্য বিশেষ গ্রেড (সুপার গ্রেড-সিনিয়র সচিব সমমান) নিশ্চিত করা। জুনের মধ্যে দাবি না মানলে ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যান তারা। সব ধরনের ক্লাস পরীক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয় তাদের আন্দোলনের ফলে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।
উল্লেখ্য, চলমান অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকেই সর্বজনীন পেনশনের “প্রত্যয়” স্কিম যাত্রা শুরু করে। এর আগে সমাজের সব স্তরের মানুষকে একটি টেকসই পেনশন ব্যবস্থায় আনার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আইন করে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এর আলোকে সর্বজনীন পেনশনের “প্রত্যয়” স্কিমে অন্যদের পাশাপাশি স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও তার অঙ্গসংগঠন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য “প্রত্যয়” স্কিম প্রবর্তন করা হয়।