চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) হলে আসন বরাদ্দ দেওয়ার আগে বর্তমানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চার দিনের মধ্যে এসব জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে আগামী রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে তারা এ জিনিসপত্র নিতে পারবেন।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল ও শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের আবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, হল/হোস্টেলে তাদের স্ব স্ব নামে বরাদ্দ করা কক্ষ থেকে/সর্বশেষ অবস্থান করা কক্ষ থেকে তাদের নিজেদের সমুদয় জিনিসপত্র নিম্নোক্ত শর্তে ২৬ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন (শুক্রবার ও শনিবারসহ) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জিনিসপত্র নিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সরবরাহ করা আইডি কার্ড এবং আসন বরাদ্দপত্র হল/হোস্টেল প্রশাসনকে দেখাতে হবে। নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়ে যাওয়া জিনিসের তালিকা হল/হোস্টেল প্রশাসনকে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া উল্লেখিত তারিখের মধ্যে কোনও ছাত্র/ছাত্রী তার জিনিসপত্র নিতে ব্যর্থ হলে এবং এ পরিপ্রেক্ষিতে কারও কিছু হারিয়ে গেলে কিংবা কোনো ক্ষতি সাধিত হলে এটির জন্য হল/হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা যাবে না। কোনো প্রতিনিধির কাছে কারও জিনিস হস্তান্তর করা হবে না।
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে গত ১২ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু তাহের পদত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ মাস উপাচার্যহীন থাকার পর ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারকে সাময়িকভাবে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বড় পরিবর্তন এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনেও। অভিযোগ রয়েছে, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ দেওয়ার। এই প্রেক্ষাপটে হলের সিট বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হল থেকে শিক্ষার্থীদের মালামাল সরিয়ে নেওয়া ঘোষণা এলো।