কিশোরগঞ্জে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের শ্রীশ্রী জিউর আখড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা সেখানকার ৭টি প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

এই পূজার আয়োজক শহরের বত্রিশ এলাকায় মণিপুরঘাট রোড হিন্দুপাড়ার গোপীনাথ সংঘ।

সংঘের সদস্যরা জানান, এই আখড়ায় এবারই প্রথমবার তারা দুর্গাপূজার উদ্যোগ নিয়েছেন। রাত চারটা পর্যন্ত পাহারায় ছিলেন কয়েকজন। পরে তারা ঘুমিয়ে যান। এ সুযোগে ভোর রাতে দুর্বৃত্তরা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে প্রতিমাগুলো ভেঙে ফেলে। 

খবর পেয়ে সকালে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

রাতভর প্রতিমা পাহারায় থাকা গোপীনাথ সংঘের সদস্য অপু কান্তি রায় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে জানান, রাত চারটা পর্যন্ত তারা পাঁচজন মন্দির পাহারায় ছিলেন। বৃষ্টি নামার পর ভোরে ঘুমাতে যান। এরপর সকালে ঘুম থেকে উঠে দুর্গা, লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী, কার্তিকসহ সাতটি প্রতিমা ভাঙা দেখতে পান।

গোপীনাথ জিউর আখড়ার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি লিটন সরকার বলেন, “এ আখড়ায় প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলাম আমরা। এ ভাঙচুরে আমাদের ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এমন ঘটনা শহরে আর কোনোদিন হয়নি। যারা প্রতিমা ভাঙচুর করে তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায়। তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হোক।”

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নারায়ণ দত্ত প্রদীপ বলেন, “পূজার আগে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যথিত হয়েছে। সবাই এখন আতঙ্কে রয়েছে। এভাবে যদি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতে থাকে, তাহলে আমরা কীভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করব।”

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। দুষ্কৃতকারী যে–ই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

এদিকে, এ ঘটনার পর দুপুরে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানের সভাপতিত্বে কালেক্টরেট সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় প্রতিমা ভাঙচুরে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। 

এবার কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলায় ৩৬৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ঘটনার পর জেলার সবগুলো পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।