কাঁচাবাজারে ঢুকলেই চোখ কপালে উঠছে, সঙ্গে মেজাজও বিগড়ে যাচ্ছে জনগণের। ক্রেতা-বিক্রেতার বচসা দাঁড়িয়েছে নিয়মিত ঘটনায়। কয়েক বছর ধরেই বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা চলছে। এসব কথা চিন্তা করে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ব্যতিক্রমী আয়োজন রয়েছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া আদর্শ কলেজে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য “টেন টাকা ফুড” নামে ক্যান্টিন চালু করেছেন কলেজ অধ্যক্ষ মোফাজ্জাল হোসেন।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত দইখাওয়া আদর্শ কলেজ। এখানকার অধিকাংশ রোক দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করেন। শিক্ষার্থীরা সকালে বের হওয়ার সময় অনেকেই বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসতে পারেন না। তাই শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে “টেন টাকা ফুড” নামে এ ক্যান্টিন চালু করেন কলেজ অধ্যক্ষ মোফাজ্জাল হোসেন।
দুর্মূল্যের বাজারে এ ক্যান্টিনে মাত্র ১০ টাকায় মিলে দুপুরের খাবার। এতে থাকে ডাল-সবজির খিচুড়ির সঙ্গে ডিম।
৫ বছর ধরে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দুপুরে ১০ টাকায় পেট ভরে খাবার খেতে পারেন। তবে কলেজ অধ্যক্ষের নিজস্ব টাকা আর বাইরের দুয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতায় চলে এ ১০ টাকার ফুড ক্যান্টিন। এই কলেজের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০০ জন। দুপুরে ১০ টাকায় খাবার পেয়ে অনেক খুশি শিক্ষার্থীরা। ১০ টাকার ক্যান্টিন হওয়াতে অধ্যক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করছেন।
কলেজ শিক্ষার্থী মৃন্ময় সজল বলেন, “আমাদের কলেজ মানসম্মত ও সাশ্রয়ী একটি ক্যান্টিন রয়েছে। এর ফলে বাইরের কোনো খাবার খেতে হয় না। এজন্য আমাদের অধ্যক্ষ স্যারকে ধন্যবাদ জানাই।”
সাইফুল ইসলাম নামে আরেক শিক্ষার্থী জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টায় কলেজ গেটে প্রবেশের সময় ১০ টাকা দিয়ে একটি টিকিট সংগ্রহ করেন তারা। দুপুর ১টায় ওই টিকিটের মাধ্যমে তারা ক্যান্টিনে খাবার খান।
রান্নার দায়িত্বে থাকা মনোয়ারা বেগম বলেন, “বাচ্চাদের রান্না করে খাওয়াই আমার অনেক ভালো লাগে। পাঁচ বছর থেকে রান্না করি। প্রতিদিন ২০০ থেকে আড়াইশো ছেলেমেয়েকে রান্না করে খাওয়াই।”
দইখাওয়া আদর্শ কলেজ অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “কলেজটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় অনেক দূর থেকে শিক্ষার্থীরা সকালে না খেয়ে সাইক্লিং করে কলেজে আসে। সারাদিন কলেজে থেকে অনেকেই অসুস্থ ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সেই দিকটা চিন্তা করে আমি ২০১৮ সালে এই ১০ টাকার ক্যান্টিনটি চালু করেছি।”
তবে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে খাবার জোগান দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় কলেজ অধ্যক্ষ মোফাজ্জাল হোসেনকে। তিনি বলেন, “বর্তমানে সব জিনিসের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। এখন ১০ টাকায় তাদের একবেলা খাওয়ানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। যদি বৃত্তবানরা এগিয়ে আসত তাহলে খাবারে শিক্ষার্থীদের আমিষসহ পুষ্টির যোগান দেওয়া যেত।”