বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের ঢল

মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নামে সর্বস্তরের জনতার ঢল। ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয় দেশের জন্য আত্মদানকারী বীর শহিদদের।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ছয়টি গান ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা।

সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির বীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ ও তাদের শ্রদ্ধায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এরপর সকাল সোয়া ৭টায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা,  দেশি-বিদেশি কূটনীতিক শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ খুলে দেওয়া হয় সর্বসাধারণের জন্য। সেখানে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। এদিন ভোর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুনে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে জড়ো হন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয় সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও ফুলেল শ্রদ্ধায়। দলে দলে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিয়ে প্রবেশ করতে থাকেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিশু কিশোর থেকে বয়োবৃদ্ধ, কেউ লাল-সবুজ পোশাক পরে আবার কেউবা স্কুল-কলেজের পোশাক পরে হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।

স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন মো. আলাউদ্দিন নামের একজন। তিনি বলেন, “ঢাকার খিঁলগাও থেকে পরিবার নিয়ে এসেছি। যাদের জীবনের আত্মত্যাগে আমরা এই স্বাধীনতা পেয়েছি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতীয় বীরদেরকে। ছেলে-মেয়েদেরকেও ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করে দিচ্ছি।”

মাইশা আক্তার নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা নিজ চোখে দেশ স্বাধীন হতে দেখিনি। তবে ইতিহাস পড়ে জেনেছি। আমরা নতুন প্রজন্ম আজকের এই দিনে বীর শহিদদের অকৃত্রিম আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা শ্রদ্ধার স্মরণ করছি। আশা করছি তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সামনে এগিয়ে যাবে “

১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ইতিহাস রচনা করে মুক্তিগামী বাঙালিরা। ত্রিশ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে পৃথিবীর বুকে জায়গা করে নেয় লাল-সবুজের নতুন একটি মানচিত্র। তাদের সম্মান জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রাঙ্গণে আসা এই হাজারো মানুষের একটাই প্রত্যাশা দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধশালী এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।