জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাতিলের দাবিতে “আমৃত্যু গণ-অনশন” করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ৭ জন শিক্ষার্থী এই অনশন শুরু করেন।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. নাহিদ হাসান, একই ব্যাচের গণিত বিভাগের নাসিম আল তারিক, মার্কেটিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের মোহাম্মদ রায়হান, গণিত বিভাগের গালিব হাসান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান লিমন, আইবিএ ফারহানা বিনতে জিগার ফারিনা এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান অন্বেষা ও কাজী মেহরাব।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অনশনকারী শিক্ষার্থীরা।
অনশনরত শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, ‘‘চব্বিশ সালে কোটা সংস্কারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেটি ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কারের আন্দোলন। আমরা সব অযৌক্তিক কোটার বিলুপ্তি চেয়েছিলাম। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা দেখতে পাই, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শহিদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে প্রশাসনে বসে অযৌক্তিক পোষ্য কোটা বহাল রাখার মাধ্যমে শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করছেন। সেই জায়গা থেকেই আমরা আজ আমরণ গণ-অনশন পালন করছি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।’’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদ হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি রয়েছে, তা গোড়া থেকে উপড়ে দিতে আমরা অনশনে বসেছি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আমাদের প্রাণের দাবি ছিল- মেধা দিয়েই আমাদের মূল্য যাচাই হবে, কোনো কোটা দিয়ে নয়। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এমন অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি জাবিতে বিদ্যমান থাকা আমাদের জন্য লজ্জার।”
অনশনরত শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম লিমন বলেন, ‘‘বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা রাজপথে নেমে এসেছিলাম, অনেকে শহিহদ হয়েছে, আহত হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও পোষ্য কোটা রয়ে গেছে। ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে, যারা অধিক নম্বর পেয়েও শুধু পোষ্য কোটার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পোষ্য কোটার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার সদস্যসচিব তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ‘‘আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অযৌক্তিক পোষ্য কোটা বিদ্যমান। আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে এই পোষ্য কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছি। যেহেতু এই কোটার কোনো যৌক্তিকতা নেই, সেহেতু এটি সংস্কারের প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। এটা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করতে হবে।’’