দেশের অন্যান্য স্থানের মতো নওগাঁতেও রমজান মাস উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে মিলছে টিসিবির পণ্য। এই পণ্য নিতে মধ্যরাত রাত থেকে লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে অনেককে। সকাল গড়িয়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচন্ড রোদ উপেক্ষা করে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে তাদের। একটু কষ্ট হলেও রমজান মাসে স্বল্পমূল্যে টিসিবির এই পণ্য পেয়ে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন নওগাঁর নিম্ম আয়ের মানুষেরা।
শহরের চকমুক্তার এলাকার বাসিন্দা ফারজানা জানান, বৃহস্পতিবারের ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে তিনি বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এসে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে সিরিয়াল দিয়ে বসেছিলেন। শুধু তিনিই নন অনেকে সেহরির খাবার সঙ্গে এনে রাত ১টার দিকে লাইনে সিরিয়াল দিয়ে বসেছিলেন।
জানা গেছে, ট্রাক থেকে প্রতিদিন পণ্য পান চারশত মানুষ। কিন্তু লাইনে দাঁড়ান ছয় থেকে সাত শতাধিক মানুষ।
তবে অনেকেই পরিবারের একাধিক সদস্যদের দিয়ে পণ্য নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক মানুষরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন জানান, রমজান মাসে নিম্মআয়ের মানুষদের কাছে স্বল্পমূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে সরকারদেশের ৬৪টি জেলায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে নওগাঁতেও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ও সদর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গত ৫ মার্চ থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৮মার্চ পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
তিনি জানান, পৌরসভাসহ সদর উপজেলার পাঁচটি পয়েন্টে ৩৯০ টাকা প্যাকেজ মূল্যে দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল এবং এক কেজি চিনি বিক্রি করা হচ্ছে। ছুটির দিন ব্যতিত প্রতিদিন জেলা শহরের দুই হাজার পরিবার সাশ্রয়ী মূল্যে এই পণ্যগুলো পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি পয়েন্টে পণ্যের চেয়ে চাহিদা সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় এবং সিরিয়াল লাইনে পেছনে থাকার কারণে অনেকেই প্রথমবার না পেয়ে চলে যাচ্ছেন। তবে প্রথমবার যারা পাচ্ছেন না তারা পরের দিন পণ্য নিচ্ছেন। আবার পণ্য বিতরণে যেন কোনো প্রকারের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয় সেজন্য প্রতিটি পয়েন্টে একজন করে ট্যাগ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধি ও রোগীসহ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি একজন মানুষ যেন একাধিকবার পণ্যগুলো ক্রয় করতে না পারেন। স্বল্পমূল্যে টিসিবির এই পণ্যগুলো পেয়ে নওগাঁর নিম্ম আয়ের মানুষরা অনেকটাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। এছাড়াও ন্যায্য মূল্যের দোকান থেকেও সকল শ্রেণিপেশার মানুষরা স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন পণ্য নিতে পারছেন। সরকারের এমন কার্যক্রমের প্রভাব পড়েছে খোলা বাজারে। ফলে চলতি রমজান মাসে খোলা বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম তেমন একটা বৃদ্ধি পায়নি।”
আগামীতেও সরকারের এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকার আশ্বাস প্রদান করেছেন এই কর্মকর্তা।