জেমসের কনসার্ট থেকে মোবাইল ফোন চুরির হিড়িক, থানায় ১৩০ জিডি

টাঙ্গাইলে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ উপলক্ষে আয়োজিত ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন নগর বাউল জেমস। আনন্দ–উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিল হাজারো তরুণ। কিন্তু এ সময় প্রায় কয়েকশ মোবাইল ফোন চুরি হয়। চুরি থেকে রেহাই পাননি গণমাধ্যম কর্মীরাও।

মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে টাঙ্গাইল শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে এমন ঘটনা ঘটে। ওই কনসার্টে কয়েকজন নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে।

বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৩০ জন টাঙ্গাইল সদর থানায় মোবাইল ফোন হারানোর জন্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তারা সবাই কনসার্টে গিয়ে মুঠোফোন সেট হারিয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন।

জানা যায়, আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়। এই চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এর ট্রফি উন্মোচন হয়। উদ্বোধন করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ বিএনপির ও আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেমসের কনসার্টে উপলক্ষে বিকেল থেকেই ঢল নামে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে। পরে রাত ৯টার দিকে জেমস মঞ্চে ওঠেন। বিভিন্ন গান পরিবেশন করে তিনি দর্শকদের মাতোয়ারা করেন। এ সময় স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে কনসার্টের এক পর্যায়ে কয়েকশ মোবাইল চুরি হয়। এ সময় বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির ডিজিটালের সদর ও মির্জাপুর প্রতিনিধির মোবাইল ফোনও চুরি হয়েছে।

অপরদিকে কয়েকজন নারীকে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই পোস্ট করছেন। এ নিয়ে জেলায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কারণে আয়োজক কমিটিকে হিমশিম খেতে হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। এতে সাধারণ অনেক দর্শনার্থীই ঠিকমতো কনসার্ট উপভোগ করতে পারেননি।

সাংবাদিক নাঈম খান রাব্বি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পেশাগত কাজের জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু জেমসের কনসার্টে আমার মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। এছাড়া আমার ভাগনেরও ফোন হারিয়েছে।”

টাঙ্গাইলের ক্রীড়া সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করার জন্য সাংবাদিক হিসেবে ভিআইপি গেটে দিয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে ফিরে এসেছি। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও টিকিট ছাড়া প্রবেশ করতে দেয়নি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।”

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল। মোবাইল চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩০ জন জিডি করেছেন।”