মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সীমান্ত দিয়ে ১৪ জনকে বাংলাদেশে “পুশ-ইন” করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে শ্রীমঙ্গল ৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মুরইছড়া ক্যাম্পের একটি টহল দল স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের আটক করে।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ভোর বেলা উপজেলার মুরইছড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের পুশ ইন করা হয়। পরে বিজিবি তাদের পরিচয় শনাক্ত করে। তারা সবাই বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা।
শ্রীমঙ্গল বিজিবি সেক্টরের ৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া ১৪ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে কোনো এক সময় মুরইছড়া সীমান্তের কুকিজুড়ী এলাকা দিয়ে চারজন পুরুষ, চারজন শিশু এবং ছয়জন নারীসহ মোট ১৪ জনকে কাঁটাতারের গেট খুলে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে বিএসএফ। সকালে তাদের সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় বিজিবির টহল দল তাদের আটক করে মুরইছড়া ক্যাস্পে নিয়ে আসে।
আটকরা হলেন কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার মো. মফিজুল ইসলাম (৪৫), মফিজুলের স্ত্রী মল্লিকা (৪০), মিম (১৯) ও মুমিন (৪ মাস), ফুলবাড়ি থানার জরিনা খাতুন (৭৫), জলিল মিয়া (৪৫), জলিলের স্ত্রী কাজলি (৪০), ছেলে হাবিব (২২), ইছা মিয়া আলী (২০) ও কাজল (১১), একই এলাকার মৃত আনোয়ারুলের মেয়ে আফসানা (২০), ইছা মিয়ার স্ত্রী আলফিনা (১৮), শাহিন মিয়ার মেয়ে শাহিনা (৭) ও হাবিবের শিশু ছেলে হালিম (১)।
জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানান, সীমান্তপথে অবৈধভাবে তারা ভারত প্রবেশ করে রাজস্থানে একটি ইট ভাটায় কাজ করতেন। ভারতীয় পুলিশ তাদের বুধবার আটক করে দায়িত্বরত বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। রাতেই তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আপছার বলেন, “সীমান্তে ১৪ জনকে পুশইনের বিষয়টি জেনেছি। তাদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। আটকৃতরা এখনও বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”