গাজীপুরে কারখানার পানি পানে অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ছুটি ঘোষণা

গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় এলাকায় একটি পোশাক কারখানার অভ্যন্তরে সরবরাহ করা লাইন থেকে পানি পান করে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক।

শনিবার (১৭ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশে (জিএমপির) বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন খান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, নাওজোড় এলাকার ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিক কম্পোজিট পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানা অভ্যন্তরে সরবরাহ করা লাইন থেকে পানি পান করেন। পরে কয়েকজন শ্রমিক পেট ব্যাথা ও বমি বমি ভাব অনুভব করায় তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর আরও কিছু শ্রমিক একই সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পরেন। তবে আশংকাজনক অবস্থা কারও নেই।

অসুস্থ শ্রমিকদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, সিরাজুল হক জেনারেল হাসপাতাল, নাওজোড়ের সিটি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কারখানার শ্রমিকরা জানান, ছয়তলা বিশিষ্ট ওই কারখানায় কমপক্ষে ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সকাল ৮টায় কারখানায় প্রবেশ করে অনেকেই সরবরাহ করা ট্যাপ থেকে পানি পান করেন। এর আধ ঘণ্টা পর একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন সহকর্মীরা।

অসুস্থ শ্রমিকরা বলছেন, পানি পান করার পর তারা বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা ও পেটে ব্যথা অনুভব করেন। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

সিরাজুল হক জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মোর্শেদ বলেন, “অসুস্থ শ্রমিকদের মাথা ঘোরা, বমি ভাব, পেটব্যথার মতো লক্ষণ রয়েছে। তাদের বেশির ভাগই চিকিৎসা দেওয়ার পর অনেকটা সুস্থ হয়েছেন।”

আক্রান্ত রোগীরা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে, চিকিৎসকের বরাত দিয়ে নাওজোড়ের সিটি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আব্দুল হামিদ ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, এখন পর্যন্ত ৬০-৭০ জনের মতো অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। অসুস্থ হওয়াদের মধ্যে পেটের পীড়া, বমি বমি ভাব রয়েছে।