বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সালামীপাড়া এলাকায় চোরাচালানিদের হামলায় আহত হয়েছেন তিনজন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য। এ সময় হামলাকারীরা বিজিবির জব্দ করা ১৩টি চোরাই গরু ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
রবিবার (১ জুন) নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকধালা এলাকার উত্তর সালামীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম নামে বিজিবির একজন ল্যান্স নায়েকের কাঁধের হাড় ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় আজ সোমবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন বিজিবি সদস্য এ এম নুর ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, রবিবার বিকেলে চাকধালার উত্তর সালামীপাড়ায় যায় বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় একদল চোরাচালানি গরু নিয়ে আসছিল। তারা বিজিবি টহল দলকে আসতে দেখে প্রথমে পালিয়ে যায়। এরপর বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত পথে নিয়ে আসা ১৮টি গরু জব্দ করেন। গরু নিয়ে বিজিবি সদস্যরা ফেরার সময় চোরাকারবারিরা দেশি বন্দুকের গুলি ছোড়ে ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিজিবি সদস্যরা গরু জব্দ করায় ২০ থেকে ২৫ জন চোরাকারবারি লাঠিসোঁটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা বেধড়ক মারধর করে বিজিবি সদস্যদের। হামলাকারীরা ১৩টি গরু ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। হামলায় ল্যান্স নায়েক শফিকুল ইসলামের কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। নজরুল ইসলাম ও সোহাগ নামে আরও দুজন আহত হয়েছেন।
মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- আক্তার কামাল (৩৫), মো. মিজান (২৫), মো. কাদির (৩৫), ইয়াসিন আরাফাত (৩২), মিজানুর রহমান (৩৭), শাকিল (৩৬), আব্দুর রহিম (৪০), মো. শাহিন (৩৫), মোহাম্মদ হোসেন (৪১), নুর মোহাম্মদ (৩২), নুরুল আমিন (৩৪), হামিদ হোসেন (৪০) ও শোয়াইব (২৮)।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসরুরুল হক জানিয়েছেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে চোরাচালান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।