গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথের ভেতরে এক পোশাকশ্রমিক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই বুথের নিরাপত্তারক্ষী লিটন মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) অভিযুক্ত লিটন মিয়াকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, সোমবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার আনসার রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর লিটন মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। লিটন মিয়া কিছুক্ষণ পর পর তার অবস্থান পরিবর্তন করছিল। পরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পৌরসভার আনসার রুট এলাকা থেকে রাত ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্ত লিটন মিয়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও (পাগলা) থানার ডুবাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে তালহা স্পিনিং মিলস লিমিটেড কারখানার সঙ্গে লাগোয়া একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করেন।
এরও আগে, রবিবার (১৫ জুন) সকালে ব্যাংকের এটিএম বুথের ভেতর পোশাকশ্রমিক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে। এদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে লিটনকে আসামি করে মামলা রুজু করেন। ঘটনার পর থেকে লিটন পলাতক ছিলেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, ওই কিশোরী একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। বেতনের টাকা তোলার সুবাদে এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীর লিটনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। লিটন তাকে বেশি বেতনে চাকরি দেওয়ার ব্যাপারে কথা বলার জন্য রবিবার সকালে ডেকে নিয়ে এটিএম বুথের ভেতরে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
মামলার বাদি ওই কিশোরীর বাবা এজাহারে উল্লেখ করেন, তার মেয়ে স্থানীয় একটি কারখানায় ৬ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে। ওই কারখানার পাশের আরেকটি কারখানার লাগোয়া এটিএম বুথ থেকে নিয়মিত টাকা উত্তোলন করত সে। একপর্যায়ে ওই বুথের নিরাপত্তাকর্মী লিটনের সঙ্গে পরিচয় হয়। লিটন তাকে এটিএম বুথের লাগোয়া কারখানাটিতে বেশি বেতনে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, রবিবার সকাল ৬টার দিকে লিটন মিয়া ভুক্তভোগীর বাবাকে ফোন করে। এ সময় সে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরির ব্যাপারে কথা বলার জন্য তার মেয়েকে এটিএম বুথে পাঠাতে বলে। এরপর মেয়েটি সেখানে গেলে লিটন তাকে এটিএম বুথের ভেতরে থাই গ্লাস দিয়ে আটকানো নিরাপত্তাকর্মীর কক্ষে নিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে তার বাবাকে ঘটনা জানায়।