গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলরুটের বন্ধ থাকা সাতখামাইর রেলস্টেশন চালু এবং কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
এসময় তারা সাতখামাইর স্টেশনে পৃথক সময়ে ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার এবং মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেন আটকে রেখে এ কর্মসূচি পালন করেন।
সোমবার (২৩ জুন) মানববন্ধনে সাতখামাইর ও এর আশপাশের কয়েকটি এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলরুটের শ্রীপুর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর, ইজ্জতপুর, শ্রীপুর, সাতখামাইর এবং কাওরাইদ স্টেশন রয়েছে। পাঁচটি স্টেশনের মধ্যে শ্রীপুরের পরই সাতখামাইর স্টেশন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এ স্টেশন থেকে শ্রীপুর উপজেলার বন্দরনগরী খ্যাত বরমী বাজার, লোহাই বাজার, টেপিরবাড়ি বাজার, টেংরা বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের ক্রয় করা পণ্য ঢাকায় আনা-নেওয়ার জন্য ট্রেন ব্যবহার করতেন।
এছাড়া, সাতখামাইর ও এর আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীরা উপজেলা সদরের শ্রীপুর সরকারি কলেজ, জেলা শহর গাজীপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ঢাকায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। সাতখামাইর স্টেশন থেকে স্থানীয়দের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম রেলপথ। এ স্টেশন চালু থাকা অবস্থায় এর আশপাশের বাজার জমজমাট ছিল।
সাত বছর আগে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের ৫৯টি বন্ধ রেলস্টেশনের সঙ্গে সাতখামাইর স্টেশনও চালু করা হয়। কিন্তু এক বছরের মাথায় এর কার্যক্রম আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে, প্রায় ১৫ বছর আগে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
শ্রীপুর রেলস্টেশন মাস্টার শামীমা আখতার জানান, সাতখামাইর রেলস্টেশন চালুর দাবিতে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেন ওই স্টেশনে সকাল ১০টা ২৬ মিনিট থেকে ১০টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত ১১ মিনিট এবং জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ৯টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত ১২ মিনিট আটকে রাখা হয়। এতে করে ওই দুই ট্রেনের যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এলাকাবাসীর দাবির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানানো হয়েছে।