আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অন্যতম রূপকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের স্মরণে কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে নির্মিত ম্যুরাল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে পাশের শহিদ মিনারও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ম্যুরালটি ভাঙা দেখা যায়। পাশের শহিদ মিনারের তিনটি স্তম্ভও ভাঙা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার (২৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যুরাল ভাঙার ছবি ছড়িয়ে পড়লে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন মহল ক্ষোভ জানান। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আমিরুল কায়ছার ম্যুরালটি পুনঃস্থাপন করার কথা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, নগরের রাজবাড়ি এলাকায় কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের পরিবারের উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি শহিদ মিনার এবং ম্যুরাল স্থাপন করা হয়। ওই কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষ এই শহিদ মিনারে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হাসানুজ্জামান কল্লোল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের স্ত্রী বুলি ইসলাম। ম্যুরালের পাশেই রফিকুল ইসলামের পৈত্রিক বাড়ি।
কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মো. নূরে আলম ভূঁইয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে রূপ দিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের অবদান অপরিসীম। তার স্মরণে স্থাপিত ম্যুরালটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় আমরা মর্মাহত। আমরা এর নিন্দা জানাই। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ম্যুরালটি পুনঃস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।”
কুমিল্লার ডিসি মো. আমিরুল কায়ছার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে কখন বা কারা এগুলো ভেঙেছে, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের স্মৃতি রক্ষায় ও তার সম্মানে ম্যুরাল পুনঃস্থাপনসহ যা কিছু করণীয় সবকিছুই করা হবে।”
প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রফিকুল ইসলাম জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানকে কাছে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা শহিদদের অবদানের কথা জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে স্বীকৃতির অনুরোধ জানান।
পরে রফিকুল ইসলাম তার সহযোদ্ধা আবদুস সালামকে সঙ্গে নিয়ে “মাদার ল্যাংগুয়েজ লাভার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড” নামের একটি সংগঠন তৈরি করে অন্য সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি পালিত হচ্ছে। গৌরবময় এই অবদানের জন্য ২০০১ সালে “মাদার ল্যাংগুয়েজ লাভার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড” একুশে পদক লাভ করে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর কানাডার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।