শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হলি আর্টিজানে শহিদ পুলিশ কর্মকর্তা রবিউলকে স্মরণ

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় শহিদ হন গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিম।

মঙ্গলবার তার নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে মানিকগঞ্জের কাটিগ্রামে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়েছে।

সকালে কাটিগ্রামের নজরুল বিদ্যা সিঁড়ি থেকে বের হয় শোকর‌্যালি। এতে অংশ নেন শহিদ রবিউলের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা, আর তার প্রতিষ্ঠিত বিশেষ শিশুদের স্কুল “ব্লুমস”-এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয় তাকে।

এরপর ব্লুমস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি জি আর শওকত আলী। প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমা, ছোট ভাই শামসুজ্জামান শামস, সাংবাদিক হুমায়ুন কবির, নিসচার ধামরাই শাখার সভাপতি মো. নাহিদ মিয়া প্রমুখ।

রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমা বলেন,"রবিউল শুধু পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না। ২০১১ সালে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ব্লুমস, যেখানে সমাজের অবহেলিত ও বিশেষ শিশুদের জন্য ছিল ভালোবাসা, সম্মান আর সুযোগ। তার স্বপ্ন ছিল আবাসিক ভবন ও বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের। কিন্তু তিনি শহীদ হওয়ার পর সেই স্বপ্ন থমকে গেছে।" তিনি ব্লুমসের অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।

রবিউলের ছোট ভাই শামসুজ্জামান বলেন, “জিম্মি উদ্ধার অভিযানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভাই শহিদ হয়েছিলেন। কোনো দলীয় পরিচয় ছিল না। তবুও ৫ আগস্টের পর রবিউল ও গুলশান থানার তৎকালীন ওসি সালাউদ্দিনের স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

তিনি আরও বলেন, “হলি আর্টিজানসহ বিভিন্ন জঙ্গি হামলায় শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে শহীদ পরিবারগুলোর নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।”

এদিকে বিকেলে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইনসে রবিউল করিম ফটকের পাশে নির্মিত তার ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।