ফেনীর ফুলগাজি ও পরশুরাম আশ্রয়কেন্দ্রে নেই খাবার, ওষুধ, টয়লেট

ফেনীর ফুলগাজি ও পরশুরাম উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বন্যাদুর্গতরা পড়েছেন দুর্ভোগে। তারা বলছেন, “আশ্রয় নয়, যেন আরেক বিপদে পড়েছি।”

বিশেষ করে ফুলগাজি উপজেলার আলী আজ্জম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে তিনদিনে মাত্র একবেলা খাবার পেয়েছেন দুর্গতরা। তাও পাঠিয়েছে বিজিবি। অথচ আশ্রয়কেন্দ্রে নেই বিশুদ্ধ পানি, নেই চিকিৎসাসেবা বা ওষুধ, এমনকি নেই টয়লেট ব্যবস্থাও।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে দেখা যায়, স্কুলসংলগ্ন দুটি টয়লেট কোমরসমান পানিতে ডুবে রয়েছে। তালাবদ্ধ বাকি টয়লেটগুলোতেও প্রবেশ অসম্ভব।

এ কারণে নারী ও শিশুরা বাধ্য হয়ে খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। আশ্রয়কেন্দ্রের একটি রুমে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন প্রায় ৪০ জন মানুষ। এর মধ্যে দুই শিশু ও এক বৃদ্ধ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান উপস্থিত আশ্রয়প্রার্থীরা। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।

শুধু ফুলগাজি নয়, পরশুরাম উপজেলার অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রেও একই দৃশ্য। দুর্গতদের অভিযোগ, কোনো কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত খাবার কিংবা চিকিৎসা পৌঁছেনি।

আশ্রয়প্রার্থী এক নারী বলেন, “তিন দিন হইলো উঠছি, একমুঠো চালও পাই নাই। ছোট ছোট বাচ্চাগুলা লইয়া কেমনে থাকি কন?”

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পৈথরা ও জামুয়া গ্রামের মানুষজন জানান, পানিতে তাদের ঘরবাড়ি, আসবাব, চাল-ডাল সব ভেসে গেছে। হাতে টাকা নেই। ওষুধ ও খাবার কিনতেও পারছেন না। যা পাওয়া যাচ্ছে, তা দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।

তবে দুর্গতদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফুলগাজি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম।

তিনি বলেন, “বুধবার রাতে আমরা রান্না করা খাবার পাঠিয়েছি। আমাদের টিম নিয়মিত মনিটর করছে।”

কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে। অন্ধকার আশ্রয়কেন্দ্রে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ শিশু, খাবার না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া মানুষ—এই হচ্ছে বানভাসিদের দিনযাপন। প্রশাসনের নজরদারি ও জরুরি সহায়তা ছাড়া এই দুর্দশা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।