শিবিরের সঙ্গে অন্যদের আদর্শিক জায়গা থেকে বিভেদ থাকতে পারে, কিন্ত আমাদের জুলাই সহযোদ্ধাদের ওপর থ্রেট এলে ছাত্রশিবির বসে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিজ্ঞান অনুষদের মাঠে জবি শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা জাতিগতভাবে এখনও আমাদের আদর্শ ঠিক করতে পারিনি। আমরা সংবিধানে গণতন্ত্রের কথা বলছি, আবার সমাজতন্ত্রের কথাও বলছি। যার একটা আরেকটার সঙ্গে কনফ্লিক্টিং।”
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “পৃথিবীতে মানুষের যত অর্জন আছে সেটাই শেষ অর্জন নয়। প্রতিটি অর্জন নতুন কিছু অর্জনের দ্বার খুলে দেয়। তোমাদের সবাইকে আমাদের এই প্রিয় ক্যাম্পাসে স্বাগতম। জগন্নাথের অনেক সমস্যা আছে। তারমধ্যে অন্যতম হলো, লাইব্রেরি সমস্যা। কিন্তু তাই বলে হতাশ হওয়া যাবে না। পৃথিবীতে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠা মানুষের সফল হওয়ার সংখ্যা বেশি। পৃথিবীতে এমন খুব কমই উদাহরণ আছে যে, কোনো প্রতিষ্ঠান স্কুল থেকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তেমন একটি প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জহির রায়হান, কবি মতিউর রহমান মল্লিক ও শাহ আব্দুল হান্নানের মতো রাজনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিক, অর্থনীতিবিদ পড়াশোনা করেছেন যেটি গর্বের বিষয়।”
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো রেজাউল করিম বলেন, “আমরা ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে শুরু করেছি। আমরা চাই তোমরা যেন সবার আগে শেষ করতে পারো। আমরা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই। ছাত্রশিবির আজকে যে উদ্যোগ নিয়েছে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে এরকম আয়োজনের আহ্বান জানাই।”
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড (Howard) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম যে সাহসী ভূমিকা রেখেছে তা অবিস্মরণীয়। এদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা আছে, তার প্রভাব আমাদের সমাজে ও রাষ্ট্রে পড়বে বলে আমার বিশ্বাস। কোনো কিছু গড়া কঠিন, ভাঙা সহজ। তাই আমরা যদি তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে এই সমাজ পরিবর্তন করতে চাই তা রাতারাতি সম্ভব না। প্রথম কাজ হলো ছাত্রদের পড়াশোনায় ফেরানো। শিক্ষার্থীদের কাজ শুধু রাজনীতি নিয়ে ভাবা না। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়েও দক্ষ হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এক ছাত্র সংগঠনের প্রোগ্রামে অন্য সংগঠনের সদস্যরা যাবেন, এরকম একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আমাদের পেশিশক্তির রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, জবি শিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলামসহ বর্তমান নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।